কলকাতার রাজাবাজার, পার্কসার্কাস, তিলজলা বা তোপসিয়ার মতো জনবহুল এলাকায় জুম্মার নমাজ পাঠের জন্য রাস্তা আটকে পড়ার দীর্ঘদিনের প্রথা এবার বন্ধ হলো। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা মেনে এবং প্রশাসনিক কঠোর অবস্থানের জেরে, আজ শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মসজিদের ভেতরেই জুম্মার নমাজ সম্পন্ন করেছেন। কোথাও কোনো রাস্তা অবরোধের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ: পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উপাসকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নাখোদা মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মসজিদে দুটি করে শিফটের ব্যবস্থা করেছিল। নাখোদা মসজিদের মুখপাত্র নাসির ইব্রাহিম জানিয়েছেন, “সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তা মানা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। এদিন কোথাও রাস্তায় নমাজ পড়ানো হয়নি। শিফটের ব্যবস্থার ফলে সবাই মসজিদের ভেতরেই নমাজ পাঠ করতে পেরেছেন।” যে এলাকাগুলোতে মিশ্র জনবসতি রয়েছে, সেখানে একটি শিফটের মাধ্যমেই নমাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: সাম্প্রতিক অতীতে রাজাবাজার এলাকায় রাস্তা আটকে নমাজ পাঠকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ, পাথর ছোঁড়া এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনস্বার্থে রাস্তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাস্তায় কোনোভাবেই নমাজ পাঠ বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্থান থেকে লাউডস্পিকারের আওয়াজ বাইরে না যাওয়ার ব্যাপারেও কড়া নির্দেশ রয়েছে রাজ্য সরকারের।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, জনজীবন বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করবে। এই প্রশাসনিক তৎপরতা এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার ফলে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের পথে পা বাড়াল শহর কলকাতা।





