রান্নার গ্যাস নিয়ে হাহাকার? ‘মাস্টারপ্ল্যান’ মোদী সরকারের, জানুন কী এই ‘প্ল্যান বি’!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে লেলিহান শিখা, আর তার আঁচ এসে পড়ছে ভারতের হেঁশেলে! আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েলের ত্রিমুখী লড়াইয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। ফলে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) আমদানিতে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ‘প্ল্যান বি’ (Plan B) কার্যকর করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

সঙ্কট মেটাতে কেন্দ্রের ‘প্ল্যান বি’
ভারত সাধারণত কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ওপর গ্যাসের জন্য নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ। এই অবস্থায় মোদী সরকার হাত বাড়িয়েছে নতুন বিকল্পের দিকে।

বিকল্প আমদানিকারক দেশ: আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ে থেকে ইতিমধ্যেই ভারতে আসতে শুরু করেছে গ্যাস বোঝাই কার্গো।

উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশের তেল সংস্থাগুলোকে (IOCL, BPCL, HPCL) এলপিজি উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যবহারে কোপ, লক্ষ্য আমজনতার হেঁশেল
বাজারে এলপিজি-র ঘাটতি রুখতে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপাতত রাশ টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। হোটেল বা বড় কলকারখানার চেয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়াকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বিজনেস টুডে-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর সবরকম চেষ্টা চলছে।

কেন এই চরম সঙ্কট?
ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬২ শতাংশ আসে কাতার এবং আরব আমিরাত থেকে। এছাড়া সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে আসে বড় একটি অংশ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মুম্বইয়ের মতো শহরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তবে সরকারের দাবি, বিকল্প দেশগুলো থেকে গ্যাস আসা শুরু হওয়ায় দ্রুতই এই মেঘ কেটে যাবে। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy