রাতভর ৭ বিচারককে আটকে রাখা ও তাড়া করা! মোথাবাড়িকাণ্ডে গ্রেফতার ISF সদস্য গোলাম রব্বানি

মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় প্রথম সাফল্য পেল এনআইএ (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় মোথাবাড়ির পঞ্চায়েত সদস্য গোলাম রব্বানিকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃত ব্যক্তি আইএসএফ (ISF) সদস্য বলেও জানা গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এনআইএ-র এই প্রথম গ্রেফতারি মালদা জেলাজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।

কেন গ্রেফতার গোলাম রব্বানি? এনআইএ সূত্রে খবর, গোলাম রব্বানির গ্রেফতারির নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে: ১. হামলায় সক্রিয় ভূমিকা: গত ১ এপ্রিল মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর হামলার সময় হামলাকারীদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং রাস্তা আটকে বিচারকদের গাড়ি তাড়া করার ঘটনায় রব্বানির যুক্ত থাকার জোরালো প্রমাণ মিলেছে। ২. উস্কানি ও জমায়েত: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কারা ওই এলাকায় বিশাল জমায়েত করেছিল এবং সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়েছিল— সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি রব্বানি। সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কড়া তদন্ত এসআইআর-এ (SIR) নাম থাকা ভোটারদের সমস্যা মেটাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৩ জন মহিলা বিচারক-সহ মোট ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসার মোথাবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁদের ওপর নারকীয় হামলা চালানো হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী উদ্ধারে এলে তাঁদের গাড়িও তাড়া করা হয়।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এনআইএ-কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এই তদন্ত সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারিতে হচ্ছে এবং এনআইএ সরাসরি সুপ্রিম কোর্টেই রিপোর্ট জমা দেবে।

তদন্তে আরও বড় মাথার খোঁজ গোলাম রব্বানিকে গ্রেফতারের পর এবার তাঁর সহযোগী এবং হামলার আসল মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করতে মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এনআইএ-র এই প্রথম অ্যাকশন বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিচারকদের ওপর হামলাকারীরা কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy