বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাতভর অতি ভারী বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জলমগ্নতার চিত্র ধরা পড়েছে। বিশেষ করে বনগাঁ-বাগদা সড়ক, টেকনোপলিস এবং নিউটাউন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় জল জমে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে অফিস টাইমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
বনগাঁ-বাগদা রোডে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি:
বনগাঁ-বাগদা সড়কের নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরে বনগাঁর মতিগঞ্জ থেকে বাগদা যাওয়ার রাস্তাটির বেহাল দশা। এবারের বৃষ্টিতে জল জমার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক গাড়িচালক এবং স্থানীয় মানুষ জমা জল দেখে রাস্তাটিকে পুকুর বলে ভুল করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তার খানাখন্দে জমে থাকা জল ছেঁচে ফেলছেন।
বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ এই পরিস্থিতিকে ‘প্রকৃতির বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “টানা বৃষ্টিতে জল জমেছে। এটা প্রকৃতির বিপর্যয়। তবে পুরসভা সদা সতর্ক। পুর বিভাগের কর্মীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেমেছেন। শহর জুড়ে বৃষ্টি জল যাতে জমে না থাকে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
কলকাতার চিত্র ও রেল পরিষেবায় প্রভাব:
কলকাতার ডানলপগামী লেন অধিকাংশটাই জলের তলায় চলে গেছে। স্টেশন চত্বরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি, গোটা হাওড়া জুড়েও জল জমে গিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লোকাল ট্রেনের নিত্যযাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।
রাতভর এবং ভোরের দিকেও ভারী বৃষ্টির ফলে শিয়ালদহ শাখার বেশ কিছু স্টেশনে রেললাইনে জল জমার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান বজায় রাখতে রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল-টেলিকম, অপারেটিং এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মীরা ময়দানে নেমেছেন। শিয়ালদহ মেইন শাখায় বেশিরভাগ জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় রেললাইনে বিভিন্ন জায়গায় জল জমার সমস্যা তৈরি হলেও, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য রেল কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা জল জমার সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





