মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা—রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ। রাজ্যজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হতেই সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। যার সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাল নথি তৈরি করে যারা পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল, প্রশাসনিক কড়াকড়িতে তাদের মধ্যেই এখন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার এক হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” বা চিহ্নিত করা, তথ্য মুছে ফেলা এবং বহিষ্কার করার নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। এরপর থেকেই প্রতিটি জেলায় নাগরিকত্ব যাচাই, জাল নথি শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, যাদের বৈধ নাগরিকত্বের কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ এই ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা হবে। পাশাপাশি, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই কড়াকড়ির ফলে স্বাভাবিকভাবেই সীমান্ত এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দলে দলে মানুষ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। প্রশাসনের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এই স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা আসলে এক ধরনের “রিভার্স মাইগ্রেশন”। যারা এতদিন ভয়ে ভয়ে ভারত-বাংলা সীমান্তের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে ছিলেন, তারা এখন কড়া নজরদারির মুখে পড়ে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ভোটার তালিকা সংশোধন বা বাড়ি বাড়ি নথি যাচাইয়ের সময় এই হাকিমপুর সীমান্তে এরকমই ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি গম্ভীর। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার কোনো আপস করতে রাজি নয়। অবৈধ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। হাকিমপুর সীমান্তের এই সাম্প্রতিক ভিড় সেই কঠোর প্রশাসনিক অবস্থানেরই বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে বলেই আশা করছে প্রশাসনিক মহল।





