রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলোতে শিক্ষকের সংখ্যা অপ্রতুল। সম্প্রতি শিক্ষা দফতরের এক রিপোর্টে এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলার ৪৯,৩৬৮টি প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে ২,২১৫টি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক আছেন, আর কিছু স্কুলে কোনো শিক্ষকই নেই। এই সমস্যা মেটাতে এখন শিক্ষা দফতর জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
কোথায় শিক্ষকের অভাব সবচেয়ে বেশি?
শিক্ষা দফতরের তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শিক্ষক সংকট রয়েছে পুরুলিয়া জেলায়। সেখানে ৩,০৬৭টি স্কুলে একজনও শিক্ষক নেই। এর পরে আছে বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর। এছাড়া বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুরের অনেক স্কুলেও একই সমস্যা দেখা গেছে।
শিক্ষার অধিকার আইন এবং সরকারের পদক্ষেপ:
শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য কমপক্ষে দুজন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। এই আইনকে সামনে রেখে শিক্ষা দফতর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যে স্কুলগুলোতে শিক্ষকের অভাব রয়েছে, সেখানে একই জেলার অন্য স্কুল থেকে অতিরিক্ত শিক্ষক পাঠানো হোক।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আছে এবং তারা ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন।
নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন:
এই সংকটের জন্য অনেকে সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দায়ী করছেন। ২০২২ সালের টেট (TET) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলেও এখনো ইন্টারভিউ হয়নি। ফলে নিয়োগও আটকে আছে। চাকরিপ্রার্থীরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেছেন, এই পরিস্থিতি সরকারি স্কুলগুলোকে বেসরকারি করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সরকারকে দ্রুত শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।