পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (Tribunals) ঠিকমতো কাজ করছে না কেন? বিচারপ্রার্থীরা কেন দিনের পর দিন হন্যে হয়ে ঘুরছেন? এই প্রশ্নে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। ট্রাইব্যুনালগুলির বর্তমান পরিস্থিতি এবং কাজ থমকে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ক্ষোভের মুখে ট্রাইব্যুনালগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (WBAT) এবং ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনাল (WBLRTT)-সহ একাধিক সংস্থায় বিচারপ্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। শূন্যপদ পূরণ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে। এর ফলে মানুষ সরাসরি হাইকোর্টে মামলা করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা হাইকোর্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি ট্রাইব্যুনালগুলি কার্যকর না হয়, তবে বিচারব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানতে চেয়েছে:
ট্রাইব্যুনালগুলিতে কতগুলি শূন্যপদ রয়েছে?
কেন সময়মতো সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে না?
বিচারপ্রক্রিয়া সচল রাখতে হাইকোর্ট কী কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে?
হাইকোর্টের ওপর নজরদারি সাধারণত হাইকোর্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও, বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বজায় রাখতে এই রিপোর্ট তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালগুলি যদি সচল না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়। আগামী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
আইনজীবী মহলের প্রতিক্রিয়া কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও কোনও শুনানি হয় না, ফলে মাসের পর মাস মানুষের কষ্টের সুরাহা হয় না। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তার পর রাজ্য সরকার এবং হাইকোর্ট প্রশাসন ট্রাইব্যুনালগুলি সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।





