রাজ্যের সরকারি দফতরগুলোতে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল নবান্ন। সূত্রের খবর, বিভিন্ন দফতরে কতগুলি পদ ফাঁকা রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লাগাতার চাপের মুখেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আগামী ৬ জুন নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে।
কেন এই তালিকা তৈরি? দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্য জনসভা থেকে রাজ্য সরকারের নিয়োগ নীতি এবং শূন্যপদ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। বিরোধী দলনেতার এই দাবিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এরপরই সরকারি বিভিন্ন দফতরে শূন্যপদের সঠিক সংখ্যা জানতে চেয়ে নবান্ন থেকে কঠোর নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
৬ জুনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা: রাজ্য প্রশাসনের অন্দরের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৬ জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন। সেই বৈঠকেই সরকারি শূন্যপদ পূরণের রোডম্যাপ তৈরি হতে পারে। রাজ্য সরকারের এই তৎপরতায় আশার আলো দেখছেন দীর্ঘদিনের চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, শুধু তালিকা তৈরি নয়, দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্যপদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক চাপ বনাম প্রশাসনিক তৎপরতা: শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “সরকার তথ্য লুকাচ্ছে। স্বচ্ছ নিয়োগ হলে বহু যুবক-যুবতী কর্মসংস্থান পেতেন।” পাল্টা শাসক শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সবসময়ই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেয়। এই তালিকা তৈরি মূলত প্রশাসনিক কাজেরই একটি অংশ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পঞ্চায়েত বা পরবর্তী বড় ভোটের কথা মাথায় রেখে সরকার এখন নিয়োগ ইস্যুতে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
আগামী ৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী কী ঘোষণা করেন এবং তা আদৌ বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন সমগ্র রাজ্য।





