পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের একবার উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ময়নার বিধায়ক ও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন। তাঁর দাবি, ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য প্রায় দু’শো কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প আনা হয়েছিল, কিন্তু জমি না দেওয়ার কারণে সেই প্রকল্প রূপায়ণ সম্ভব হয়নি।
দিন্দার অভিযোগের বয়ান: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিন্দা অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের যুবসমাজের উন্নতির জন্য যে বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা ছিল, তা কেবল রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে থমকে গেছে। তাঁর কথায়, “ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আমরা দু’শো কোটির প্রকল্প নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জমি দিতে নারাজ। সরকার চায় না বাংলার খেলাধুলার উন্নতি হোক।”
নতুন দিশার আশ্বাস: তবে কেবল অভিযোগ তুলেই থামেননি ময়নার বিধায়ক। তিনি রাজ্যের ক্রীড়া ক্ষেত্র নিয়ে একটি নতুন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, এখন থেকে রাজনীতির বেড়াজাল পেরিয়ে বাংলার খেলাধুলার দায়িত্ব নেবেন মূলত ক্রীড়াবিদরাই। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্রীড়া পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দিন্দার মতে, প্রশাসন যখন ব্যর্থ হয়, তখন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের হাতেই খেলার মাঠের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে।
রাজনৈতিক বিতর্ক: অশোক দিন্দার এই মন্তব্যের পর রাজ্য সরকারের ক্রীড়া দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে যে, এটি কি আসন্ন কোনো বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত? বিরোধী শিবিরের দাবি, মমতা সরকারের ক্রীড়া নীতির ব্যর্থতার কারণেই এমন বড় বিনিয়োগ হাতছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং কেবল প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলার খেলাধুলার মানোন্নয়ন নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা রাজ্যের উদীয়মান খেলোয়াড়দের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





