পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বৃহস্পতিবার সকালটি নিয়ে এল এক চরম দুঃসংবাদ। দলের অন্দরে চলতে থাকা ডামাডোলের মধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বারাইক। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহে মোট তিনজন সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়লেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে বিদ্রোহের যে আগুন জ্বলে উঠেছে, তা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বুধবার সুস্মিতা দেবের দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার প্রকাশ চিক বারাইকের পদত্যাগ তৃণমূল শিবিরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। সূত্রের খবর, ২০২৩ সালে রাজ্যসভায় মনোনীত হওয়া এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারের প্রার্থী হওয়া প্রকাশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতো বিশ্বস্ত নেতার প্রস্থান দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বড় আঘাত। নিজের পদত্যাগপত্রে প্রকাশ বারাইক অত্যন্ত সংক্ষেপে লিখেছেন, “আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করছি এবং অনুরোধ করছি তা অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।”
এই পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে ১০-এ দাঁড়িয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী সাত দিনের মধ্যে আরও তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ দল ছাড়তে পারেন। সোমবার সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে যে সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন বিধায়ক স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সহযোগী সুখেন্দু শেখরের সরে যাওয়া ছিল প্রথম বড় সংকেত। সেই সময় তৃণমূল নেত্রী দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, কিন্তু নিজের ঘরের খবর যে তিনি সামলাতে পারছেন না, তা এখন স্পষ্ট।
দলের বিধায়ক মহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই শিথিল হয়ে আসছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিদ্রোহী হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। এই বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা এখন বেড়ে ৬৪-তে ঠেকেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই বিদ্রোহ এখানেই থামছে না, বরং আগামী দিনে আরও বিধায়ক তাঁদের শিবিরে যোগ দেবেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রতকে সামনে রেখে বিধায়কদের এই অভূতপূর্ব বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ভাঙন ঠেকাতে তৃণমূল নেত্রী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা।





