২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি তবে বেজে গেল? শুক্রবার বাইপাস সংলগ্ন এক বিলাসবহুল হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচি ও থিম সং প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে গেল— আসন্ন দিনগুলোতে বাংলার মাটি কামড়েই পড়ে থাকতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
কী থাকছে বিজেপির এই মেগা কর্মসূচিতে? দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ১ মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে এই মহাযাত্রা। কোচবিহার থেকে রায়দিঘি— উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে মোট ৯টি ভিন্ন প্রান্ত থেকে একযোগে এই যাত্রা শুরু হবে। প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রের ওপর দিয়ে যাবে এই মিছিল। মাঝপথে দোলযাত্রার জন্য ৩ ও ৪ মার্চ বিরতি থাকলেও, ৫ মার্চ থেকে ফের দ্বিগুণ শক্তিতে পথে নামবে বিজেপি।
শুভেন্দু-সুকান্তদের হুঙ্কার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন শাসকদলকে। তিনি বলেন, “তোষণ, অনুপ্রবেশ আর নারী নির্যাতনই এখন বাংলার ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোদীজির বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে হারানো গৌরব ফেরানোই আমাদের লক্ষ্য।” অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারের দাবি, এই যাত্রা পরিবর্তনের ‘ভগীরথ’ হয়ে উঠবে। প্রতিদিন গড়ে ১১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
শমীকের গলায় ভিন্ন সুর: অ-বিজেপি কর্মীদেরও আমন্ত্রণ! এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক চাঞ্চল্যকর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই যাত্রা কেবল বিজেপি কর্মীদের জন্য নয়। তৃণমূল, কংগ্রেস বা সিপিএম— যে কোনও দলের কর্মী যাঁরা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে তাঁদের সকলকেই আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।” মোদীর মেগা জনসভা দিয়ে সমাপ্তি ৩৮টি সাংগঠনিক জেলা ছুঁয়ে মোট ৫৬টি বড় জনসভা এবং ২৫০টি ছোট পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। তবে এই কর্মসূচির আসল চমক রাখা হয়েছে একদম শেষবেলার জন্য। ৫,০০০ কিমি যাত্রা শেষে আয়োজিত হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মেগা জনসভা। যদিও সেই সভার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনই খোলসা করেনি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে বিজেপির এই শক্তি প্রদর্শন শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের এই বিশাল জনসংযোগ কর্মসূচি বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।