নির্বাচনী দামামা বাজার পর থেকেই রাজ্যে অফিসার বদলি নিয়ে চরমে উঠেছিল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। রাজ্যের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন যেভাবে আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) এবং রিটার্নিং অফিসারদের বদলি করছিল, সেই মামলা শেষমেশ পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টে। তবে আজ এই সংবেদনশীল মামলায় রাজ্যের আবেদনে হস্তক্ষেপ করতে চাইল না দেশের শীর্ষ আদালত।
কী নিয়ে ছিল এই বিতর্ক? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ বেশ কিছু আধিকারিককে পদ থেকে সরানো হয় এবং নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়। নবান্নের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে:
রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এই রদবদল করা হচ্ছে।
এটি রাজ্যের প্রশাসনিক এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপের শামিল।
রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজ্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: আজ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, নির্বাচনের সময় অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট পরিচালনা করার পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকে। এই সময় প্রশাসনিক রদবদল বা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে আদালত এখনই কোনো হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয়। ফলে, কমিশনের বদলির নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে।
প্রশাসনিক প্রভাব: আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানের ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে কমিশনের ক্ষমতা আরও সুসংহত হলো। রাজ্য সরকারের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হবে।
বিশেষ নোট: সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে এখন থেকে ভোটের কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর নির্বাচন কমিশনের একচ্ছত্র অধিকার বজায় থাকবে।
রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং এই বদলি প্রক্রিয়ায় ভোটের মাঠে কী প্রভাব পড়বে, তা জানতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।





