২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তী। ১৯৯৪ ব্যাচের এই আধিকারিক শুধুমাত্র রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিবই নন, বরং প্রথম বাঙালি মহিলা হিসেবেও এই অনন্য নজির গড়লেন। বৃহস্পতিবারই তিনি নবান্নে এই পদের দায়িত্ব নেবেন। অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে করা হলো মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা।
একনজরে নন্দিনী চক্রবর্তীর কর্মজীবন: বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক হিসেবে কাজ শুরু করা নন্দিনী চক্রবর্তী প্রশাসনের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। বর্ধমানের মহকুমা শাসক, হাওড়ার জেলাশাসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, শিল্প, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তবে তাঁর কর্মজীবন ছিল কাঁটায় ভরা। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের প্রধান সচিব থাকাকালীন রাজভবন ও নবান্নের টানাপড়েনে তাঁর নাম বারবার শিরোনামে এসেছিল। একসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরার সঙ্গেও তাঁর সংঘাত বাধে।
প্রশাসনিক স্তরে অন্য রদবদল: নন্দিনী চক্রবর্তী এতদিন স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তিনি পদোন্নতি পাওয়ায় এখন নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন জগদীশ মিনা। উল্লেখ্য, ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস মনোজ পন্থের বর্ধিত কার্যকাল বুধবার শেষ হয়েছে। তাঁকে এবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ঘর গোছাতেই এই অভিজ্ঞ আধিকারিকদের ওপরেই ভরসা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।