একই রাজ্যে দুই ছবি! কোথাও দুই পায়ে প্লাস্টার নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে মহিলা, কোথাও অসুস্থের দুয়ারে কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) ঘিরে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি চিত্র ধরা পড়ল রাজ্যের দুই প্রান্তে। আলিপুরদুয়ারে যখন এক যন্ত্রণাকাতর মহিলার প্রতি প্রশাসনের চরম উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে দেখা গেল মানবিকতার অনন্য উদাহরণ।
আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিখা ভৌমিকের দুই পায়েই এখন প্লাস্টার। গত সাত দিন আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান ৫০ বছর বয়সি এই মহিলা। অভিযোগ, তাঁর এই শারীরিক অবস্থার কথা না জেনেই বিএলও (BLO) তাঁর পরিবারের হাতে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিস ধরিয়ে দিয়ে যান। বাধ্য হয়েই প্রবল যন্ত্রণা নিয়ে তাঁকে সশরীরে হাজির হতে হয় শুনানি কেন্দ্রে। প্রশাসনের এই অমানবিক আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর পরিজনরা।
অন্যদিকে, কাকদ্বীপে দেখা গিয়েছে উল্টো ছবি। সেখানে ভোটারদের আর কেন্দ্রে যেতে হয়নি, বরং কমিশনই পৌঁছে গিয়েছে তাঁদের দুয়ারে। কাকদ্বীপের বিডিও (BDO) অভিষেক মিশ্র নিজে শ্রীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৫ বছর বয়সি শয্যাশায়ী আলমবারি শেখের বাড়িতে গিয়ে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। একইভাবে ৮৫ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম বৃদ্ধা মন্দা ধাড়ার বাড়িতেও পৌঁছে যান কমিশনের প্রতিনিধিরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই মানবিক পদক্ষেপ যখন প্রশংসিত হচ্ছে, তখন আলিপুরদুয়ারের ঘটনা প্রশাসনের সংবেদনশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।