দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। এলাকার এক পঞ্চায়েত প্রধানকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মারধর করেছে— এই অভিযোগে বুথ চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ থমকে যায়। উত্তপ্ত জনতা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার ভোট চলাকালীন একটি বুথের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান। অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
জওয়ানদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ: মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকশ বিক্ষোভকারী লাঠি ও পতাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি:
নিরাপত্তার নামে জুলুম: ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং জন প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
ভোট বয়কটের ডাক: অভিযুক্ত জওয়ানদের অপসারণ না করা পর্যন্ত ভোট হতে দেওয়া হবে না বলে সরব হন স্থানীয়রা।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। এই গোলমালের কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়।
কমিশনের হস্তক্ষেপ: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সত্যিই বাহিনীর পক্ষ থেকে মারধর করা হয়েছে নাকি বিধিভঙ্গের কারণে তাঁকে আটকানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন সেক্টর অফিসাররা। বিকেল পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।





