শিক্ষিত বেকারদের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পের টাকা কি তবে দুর্নীতির চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে? মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নম্বর ব্লক অফিসে বৃহস্পতিবার এমনই এক গুরুতর অভিযোগে ফেটে পড়লেন স্থানীয় যুবকরা। অভিযোগের তির সরাসরি রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের দিকে। শিক্ষিত যুবকদের দাবি, যেখানে যোগ্য প্রার্থীরা ভাতার জন্য হাপিত্যেশ করছেন, সেখানে সরকারি টাকা ঢুকছে অযোগ্যদের পকেটে!
সাত বছরের নাবালক ও ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে টাকা!
আন্দোলনকারীদের তোলা অভিযোগ শুনে তাজ্জব সাধারণ মানুষও। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রকল্পের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুরে সাত বছরের নাবালক এবং ষাট বছর বয়সী বৃদ্ধদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অবলীলায় ঢুকে যাচ্ছে যুবসাথী ভাতার টাকা। এই ‘পাহাড়প্রমাণ’ দুর্নীতির প্রতিবাদে এদিন বিডিও অফিসের ভেতরেই ধর্ণায় বসেন কয়েকশ যুবক। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিক্ষোভ সামাল দিতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও আসরে নামতে হয়।
“দালালদের কব্জায় সরকারি আইডি-পাসওয়ার্ড!”
আন্দোলনকারী যুবকদের অভিযোগ আরও মারাত্মক। তাঁদের দাবি:
-
সরকারি পোর্টালের তথ্য গোপন থাকছে না, তা অনায়াসেই পৌঁছে যাচ্ছে দালালদের হাতে।
-
ব্লক অফিসের সরকারি আইডি ও পাসওয়ার্ড এখন দালালদের মুঠোয়।
-
ফর্ম জমা দেওয়ার পরেই আবেদনকারীদের কাছে ফোন আসছে দালালদের। সাফ জানানো হচ্ছে, ‘কাটমানি’ না দিলে মিলবে না সরকারি ভাতা।
প্রশাসনের সাফাই ও তদন্তের আশ্বাস
উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ আধিকারিকরা। এই প্রসঙ্গে চাঁচলের মহকুমাশাসক ঋত্বিক হাজরা জানিয়েছেন, “অনলাইনে ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে প্রশাসনের এই ‘টেকনিক্যাল’ তত্ত্ব মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রশ্ন— কার ইশারায় সরকারি তথ্য দালালদের হাতে যাচ্ছে?
ঘটনার সারসংক্ষেপ: হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে যুবসাথী প্রকল্পে অযোগ্যদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে বিশাল বিক্ষোভ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রইল।