মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক মহলে নতুন আশার আলো দেখালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু চুক্তি নিয়ে ফের একবার আলোচনার টেবিলে বসার সদিচ্ছা প্রকাশ করল তেহরান। তবে এই আলোচনার জন্য ইরান একটি বড় শর্ত রেখেছে— আর তা হলো ‘পারস্পরিক মর্যাদা’।
শান্তির পথে কি বড় পদক্ষেপ? তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর দেশ আলোচনার পথ বন্ধ করেনি। তবে কোনো চাপের মুখে পড়ে বা মাথা নত করে আলোচনা নয়, বরং সমান মর্যাদা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলে তবেই বিশ্বশক্তির সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি ইরান। তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ করে ওয়াশিংটন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এক বড় কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মূল লক্ষ্য কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো কমানোই এখন তেহরানের প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি পশ্চিমী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং ইরানকে প্রাপ্য সম্মান দেয়, তবে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করা অসম্ভব কিছু নয়।
কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য: ইরানের এই নমনীয় অথচ কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চরম পর্যায়ে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের এই আলোচনার বার্তা দ্বিমুখী কৌশল বলেই মনে করছেন অনেকে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার পথও প্রশস্ত হতে পারে।
আমেরিকার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর এখন সারা বিশ্বের নজর হোয়াইট হাউসের দিকে। এর আগেও একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্টের এই ‘মর্যাদা’র তত্ত্ব নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যদি সত্যি আলোচনা শুরু হয়, তবে তা কেবল ইরান নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা হতে পারে।





