“যাদবপুর আমার মন্দির, অপমান সইব না!” রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’ নিয়ে এবার চরম বিপাকে পরিচালক

পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নতুন ছবি ‘হোক কলরব’ নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রথমে ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে বিতর্কিত সংলাপ, আর এবার সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে আইনি নোটিশের মুখে পড়লেন পরিচালক। রাজের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী অভিষেক বিশ্বাস।

কী এমন আছে ছবিতে? অভিযোগের তির রাজের দিকে

অভিষেক বিশ্বাসের দাবি, রাজ চক্রবর্তীর এই ছবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনকে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফেসবুকে আইনি নোটিশের প্রতিলিপি শেয়ার করে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলি হলো:

  • মিথ্যাচার: ছবির ট্রেলার ও টিজারে ছাত্রদের হাতে পেট্রল বোমা এবং থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো নাশকতামূলক কাজ দেখানো হয়েছে।

  • শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ইতিহাস: অভিষেকের দাবি, গত ৫০ বছরে যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলনে এমন কোনো হিংসাত্মক ঘটনার নজির নেই। শিল্পের স্বাধীনতার নামে ভুল তথ্য পরিবেশন করছেন রাজ।

“যাদবপুর আমার মন্দির”

নিজের আবেগী পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, “আমার কাছে মন্দির একটাই— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। যে প্রতিষ্ঠান আজও মাত্র ১০ হাজার টাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ দেয় এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলার সেরা, তার মানহানি মেনে নেওয়া যায় না। সারাক্ষণ ছাত্ররা যদি বোমা-বন্দুক নিয়ে থাকত, তবে পড়াশোনা করার সময় পেত কখন?”

সেন্সর বোর্ডেও অভিযোগ

অভিষেক কেবল রাজ চক্রবর্তীকেই নোটিশ পাঠাননি, তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) এবং সিনেমা রেগুলেশন বোর্ডকেও। তাঁর আর্জি, শিল্পের স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের একজোট হয়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন তিনি।

রাজ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ‘ক্ষুদিরাম’ বিতর্কের ক্ষত শুকোনোর আগেই এই ‘যাদবপুর’ ইস্যু যে ছবিটির ব্যবসায়িক ভাগ্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিনোদন জগতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy