“মোদী সরকার এখন সংখ্যালঘু সরকার, যেকোনো দিন পড়ে যেতে পারে!”— রবিবাসরীয় দুপুরে কালনার শিরিষতলা থেকে এই ভাষাতেই দিল্লি কাঁপানোর ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা আসন বাড়ানো থেকে শুরু করে এনআরসি (NRC) ইস্যু—একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগে বিজেপিকে কার্যত ধুয়ে দিলেন নেত্রী।
৮৫০ আসনের ‘ভয়ঙ্কর’ পরিকল্পনা!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মোদী সরকার ভালো করেই জানত যে ৫৪৩টি আসনেই তারা হারবে। তাই গোপনে ৮৫০টি আসন করার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির, যার আড়ালে ছিল দেশ ও রাজ্য ভাঙার এক গভীর চক্রান্ত। নেত্রীর কথায়, “জোটবদ্ধ লড়াইয়ে সেই ছক ভেস্তে গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের হাতে এখনও পর্যাপ্ত ভোট আছে, একটু হিসেব এদিক-ওদিক হলেই দিল্লির গদি টলমল করবে।”
“সামনে মহিলা পিছনে ময়লা”
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালে বিল পাশ হওয়ার পর আজও কেন তা কার্যকর করা হলো না? প্রধানমন্ত্রীর ‘নারী দরদ’কে নিছক রাজনৈতিক ভাঁওতা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “সামনে মহিলা, পিছনে ময়লা। এটা কেবলই ভোটের চালাকি।” এমনকি প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভাষণে কেন কেঁদেছিলেন, তা নিয়ে বিদ্রূপ করে মমতা বলেন, “উনি হেরে গিয়েছেন, মুখ দেখাতে পারছেন না বলেই কেঁদে ভাসাচ্ছেন।”
ডিলিমিটেশন ও NRC আতঙ্ক
কালনার মঞ্চ থেকে এনআরসি নিয়ে ফের আশঙ্কার কথা শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন:
আসামে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছিল, যার মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু।
ডিলিমিটেশনের আড়ালে আসলে নতুন করে এনআরসি আনার চক্রান্ত চলছে।
বাংলার মানুষ যাতে ডিটেনশন ক্যাম্পে না যায়, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় তুলেছেন তিনি।
বদলা হবে ‘মিষ্টি’ দিয়ে!
অত্যাচারের বদলা কীভাবে নেবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দিল্লি যেদিন ওল্টাবে, সেদিন তিনি গুণ্ডামির বদলে মানুষকে মিষ্টি খাওয়াবেন, নাড়ু বিলি করবেন। তবে ডিলিমিটেশন বা এনআরসির নামে বাংলার মানুষের ওপর কোনো চক্রান্ত চললে তিনি যে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বেন, সেই হুঙ্কারও দিয়ে রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী।





