পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের পালাবদল ঘটিয়ে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই রাজ্য শাসনের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর নতুন সরকার। মন্ত্রিপরিষদের বাকি দফতর বণ্টন এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী এখন দুদিনের দিল্লি সফরে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর প্রায় এক ঘণ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ একগুচ্ছ হাই-প্রোফাইল বৈঠকের সূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। এরপর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। দুপুর ৩টে নাগাদ নির্ধারিত রয়েছে উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক। তবে সফরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের আর্থিক প্যাকেজ, শিল্পায়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দ্রুত রূপায়ণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এই বৈঠকগুলি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
স্মরণ করা যেতে পারে, শপথ অনুষ্ঠানের দিন ব্রিগেডের মঞ্চে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছিল রাজ্যবাসী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে হুড খোলা গাড়িতে মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন। শপথগ্রহণের পরই শুভেন্দু অধিকারীর প্রধানমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম এবং প্রধানমন্ত্রীর তাঁকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন, “একজন নেতা হিসেবে শুভেন্দু এমন এক ছাপ রেখেছেন, যিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অত্যন্ত কাছ থেকে অনুভব করেছেন।”
এই শুভেচ্ছার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টুইট করে লেখেন, “আপনার আশীর্বাদ ও দিক-নির্দেশনা আমার পথকে আলোকিত করবে এবং একটি ‘বিকশিত বাংলা’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।” কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠক থেকে পশ্চিমবঙ্গ যে বড় কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক সুখবর পেতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দিল্লির এই সফরের ওপর এখন নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।





