দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার ভারতীয় ভিসা পরিষেবা নিয়ে এল বড় সুখবর। সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সিনিয়র কনস্যুলার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই সব ধরনের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করতে চলেছে ভারত।
ভিসা নিয়ে বড় আপডেট: একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, “বর্তমানে মেডিকেল এবং ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা সহ অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলোও চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” তাঁর মতে, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ওপর দাঁড়িয়ে এবং দুই দেশই এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দায়বদ্ধ।
ইউনূস জমানার তিক্ততা কাটিয়ে নতুন শুরু: ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারত ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় সম্পর্কের পারদ তলানিতে ঠেকে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলো (IVAC) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তারেক রহমানের ম্যাজিক? তবে সম্প্রতি তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরিস্থিতির ভোলবদল শুরু হয়েছে। তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, খালেদা-পুত্রের হাত ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জট দ্রুত খুলতে শুরু করেছে।
স্মৃতির পাতায় সম্পর্কের টানাপোড়েন: ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া ভিসা স্থগিতাদেশের দীর্ঘ যাত্রায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। ১৭ নভেম্বর ঢাকার আইভ্যাক এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ও ভ্রমণের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনিরুদ্ধ দাসের এই ঘোষণা সেই অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলোর দিশা দিচ্ছে।