মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-কে আগামী ২ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করার চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তদন্ত যেন কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রিতার কবলে না পড়ে।
আদালতের কড়া অবস্থান মোথাবাড়ি কাণ্ডের গুরুত্ব বিচার করে মামলাটি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং চার্জশিট পেশ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করা এবং বিচারের আওতায় আনা জরুরি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত প্রলম্বিত হলে বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণেই এনআইএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
মোথাবাড়ি কাণ্ডের প্রেক্ষাপট মালদহের মোথাবাড়িতে ঘটে যাওয়া সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ আজও কাটেনি। নিরাপত্তা ও নাশকতার আশঙ্কায় এই মামলার দায়িত্ব নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু তদন্তের ধীরগতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন মামলাকারীরা। এদিন শীর্ষ আদালতের এই কড়া নির্দেশের পর তদন্তকারী আধিকারিকদের ওপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী ২ মাস পর এনআইএ-কে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে হবে আদালতে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্থাটি কাজ শেষ করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার। মোথাবাড়ি কাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
দেশের অন্যতম প্রধান তদন্তকারী সংস্থার জন্য সুপ্রিম কোর্টের এই ‘সময়সীমা’ নির্ধারণ কার্যত এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া এই ২ মাসের মধ্যেই কি মোথাবাড়ি রহস্যের জাল পুরোপুরি কাটবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।





