বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, পূর্বতন সরকারের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পটিও এখনই বন্ধ হচ্ছে না। ফলে রাজ্যবাসী এখন একই সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রের দুটি বড় স্বাস্থ্য বিমার আওতায় চলে এলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোন প্রকল্পে কী সুবিধা পাওয়া যাবে? আপনার পরিবারের জন্য কোনটি বেশি লাভজনক? এক নজরে দেখে নিন দুই প্রকল্পের তুলনামূলক বিচার।
১. আয়ুষ্মান ভারত (PM-JAY): কেন্দ্রের সুরক্ষা
প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বা আয়ুষ্মান ভারত হলো বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প।
বিমার পরিমাণ: এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়।
পরিধি: আয়ুষ্মান ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ব্যাপ্তি। এটি ‘পোর্টেবল’, অর্থাৎ বাংলার বাইরের যেকোনো তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে (যেমন দিল্লির এইমস বা ভেলোর) এই কার্ড দেখিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব।
কারা পাবেন: মূলত আর্থ-সামাজিক ও জাতিগত জনগণনার (SECC) তথ্যের ভিত্তিতে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো এই সুবিধা পায়।
২. স্বাস্থ্যসাথী: রাজ্যের নিজস্ব ভরসা
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প গত কয়েক বছরে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে।
বিমার পরিমাণ: এই প্রকল্পের মাধ্যমেও প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পায়। তবে গুরুতর ব্যাধি বা বিশেষ ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।
পরিধি: স্বাস্থ্যসাথী মূলত রাজ্যের ভেতরের সমস্ত সরকারি ও অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে কার্যকর। তবে রাজ্যের বাইরে এর সুবিধা আয়ুষ্মান ভারতের তুলনায় সীমিত।
কারা পাবেন: এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো এটি সর্বজনীন। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি পরিবার, বিশেষ করে বাড়ির মহিলার নামে এই কার্ড ইস্যু করা হয়।
কোনটি বেশি সুবিধাজনক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের বিশেষ সুবিধা হবে ভিন রাজ্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে। যারা হার্ট বা ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারত বা দিল্লিতে যান, তাঁদের জন্য আয়ুষ্মান ভারত আশীর্বাদস্বরূপ। অন্যদিকে, পাড়ার মোড়ের নার্সিং হোম বা স্থানীয় হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড অত্যন্ত কার্যকরী।
একনজরে পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | আয়ুষ্মান ভারত | স্বাস্থ্যসাথী |
| বার্ষিক বিমা | ৫ লক্ষ টাকা | ৫ লক্ষ টাকা |
| যোগ্যতা | নির্দিষ্ট আয়ের নিচে (SECC তালিকা) | রাজ্যের প্রায় সব নাগরিক |
| সুবিধা | সারা ভারতের তালিকাভুক্ত হাসপাতাল | প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতাল |
| কার্ড কার নামে? | পরিবারের প্রধানের নামে | পরিবারের প্রধান মহিলার নামে |
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো প্রকল্পই বন্ধ করে মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য নয়। বরং দুটি প্রকল্পের মেলবন্ধনে বাংলার মানুষ যাতে সেরা মানের চিকিৎসা পান, সেটাই এখন নবান্নের অগ্রাধিকার। আপনি যদি এখনও কোনো প্রকল্পের আওতায় না এসে থাকেন, তবে দ্রুত নথিপত্র গুছিয়ে নাম নথিভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।





