প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে চলেছে মোদী সরকার। ভারতের আকাশসীমা আরও সুরক্ষিত করতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার বিশাল চুক্তিতে বড়সড় পরিবর্তন আনছে কেন্দ্র। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার এই চুক্তিতে এবার ফ্রান্সের প্রযুক্তির সঙ্গে মিশবে ভারতের দেশীয় অস্ত্র শক্তি।
ভারতের শর্ত: ফরাসি বিমানে দেশি মিসাইল
এবারের রাফাল চুক্তির সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘ইন্ডিয়ান কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট’ (ICD)। মোদী সরকার নিশ্চিত করেছে যে, এই ১১৪টি যুদ্ধবিমান এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে সেখানে ভারতের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে আকাশে নির্ভুল নিশানার অস্ত্র সহজেই যুক্ত করা যায়। অর্থাৎ, ফ্রান্সের রাফাল বহন করবে ভারতের তেজ!
১৮টি আসবে ফ্রান্স থেকে, ৯৬টি তৈরি হবে ভারতে
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মেগা ডিলের অধীনে:
১৮টি রাফাল সরাসরি ফ্রান্স থেকে উড়ন্ত অবস্থায় ভারতে আসবে।
বাকি ৯৬টি রাফাল তৈরি হবে ভারতেই, যার ২৫ শতাংশেরও বেশি যন্ত্রাংশ হবে সম্পূর্ণ দেশীয়।
ফরাসি কোম্পানি ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’-কে আগামী মাসেই রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) পাঠানো হতে পারে।
প্রতিরক্ষা স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সোর্স কোড শেয়ার না করলেও, ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্টের মাধ্যমে ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক সব ক্ষেপণাস্ত্র রাফালে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে একদিকে যেমন DRDO-র তৈরি অস্ত্রের কদর বাড়বে, অন্যদিকে দেশে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
দেশি যুদ্ধবিমান প্রকল্পেও গতি
সরকার কেবল বিদেশ থেকে বিমান কেনাতেই থেমে নেই। একইসঙ্গে দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্প যেমন— তেজস মার্ক-১এ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA)-এর কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাফাল ডিলটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তা দেশীয় প্রযুক্তির সঙ্গে কোনোভাবেই সংঘর্ষ না ঘটায়, বরং তাকে শক্তিশালী করে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির এক শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে





