মৃত্যুদূত কি দরজায় কড়া নাড়ছে? কয়েক কিলোমিটার দূরেই দুই আক্রান্ত, অথচ বাদুড়ের ছায়াতেই দিব্যি আছেন এঁরা!

রাজ্যজুড়ে এখন ত্রাসের নাম ‘নিপা ভাইরাস’ (Nipah Virus)। বারাসাতের এক বেসরকারি হাসপাতালে যখন দুই নার্স ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, ঠিক তখনই কয়েক কিলোমিটার দূরে ধরা পড়ল এক অবিশ্বাস্য ছবি। মধ্যমগ্রামের ‘বাদুড়তলা’ এলাকায় কোনো ভয় বা সতর্কতা ছাড়াই হাজার হাজার বাদুড়ের সঙ্গে দিনের পর দিন বাস করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যা দেখে কপালে চোখ উঠেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

বিপজ্জনক সহাবস্থান: মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পাটুলি বাদুড়তলা এলাকায় রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এক বিশাল বটগাছ। সেই গাছের শাখা-প্রশাখায় দিনের বেলা ঝুলে থাকে হাজারো বাদুড়। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, বাদুড়ের লালা বা তাদের খাওয়া ফল থেকেই এই মারণ ভাইরাস ছড়ায়। অথচ এই এলাকায় মাস্ক বা কোনো সতর্কতার বালাই নেই। মানুষের মাথার ওপর দিয়েই উড়ে যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে বাদুড়।

ভয় নেই স্থানীয়দের মনে: বারাসাতে নিপা আক্রান্ত হওয়ার খবর পৌঁছালেও এই এলাকার মানুষের মধ্যে কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আনসার আলী ও তানজিরা খাতুনদের কথায়, “জন্মলগ্ন থেকে এই বাদুড়দের সঙ্গেই আছি। কোনোদিন তো কোনো সমস্যা হয়নি। বারাসাতে কী হয়েছে জানি না, তবে আমরা এখানে নিশ্চিন্তেই আছি।” বটগাছের একদম পাশেই বসে সেলাইয়ের কাজ বা আড্ডা দিতে দেখা যাচ্ছে গ্রামবাসীদের।

উদ্বেগে স্বাস্থ্য দফতর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যখন ফল খাওয়ার আগে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন বাদুড়ের আতুড়ঘরে এই অসতর্কতা বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে ‘টাইম বম্ব’-এর ওপর বসে থাকা। যেকোনো মুহূর্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। তবুও পরম্পরার দোহাই দিয়ে মৃত্যুদূতের সঙ্গেই ঘর করছে বাদুড়তলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy