মুম্বইয়ে এনসিবির বিশাল ‘স্ট্রাইক’: ১৭৪৫ কোটির কোকেন জব্দ! আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের শেষ রক্ষা হলো না?

ভারতের মাদক বিরোধী অভিযানে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ‘অপারেশন হোয়াইট স্ট্রাইক’-এর অধীনে মুম্বই এবং সংলগ্ন এলাকায় হানা দিয়ে প্রায় ৩৪৯ কেজি উচ্চমানের কোকেন উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ১৭৪৫ কোটি টাকা।

কীভাবে চলল এই অপারেশন? গত ছয় মাস ধরে এনসিবির গোয়েন্দারা এক বিশাল আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার নভি মুম্বই ও থানের কালমবোলি-ভিওয়ান্ডি করিডোরে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গোয়েন্দারা প্রথমে কালমবোলিতে একটি ছোট মালবাহী গাড়ি আটক করেন। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, সাধারণ ক্রিকেট প্যাড ও গ্লাভসের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কোকেনের প্যাকেট। সেখান থেকেই সূত্র ধরে ভিওয়ান্ডির একটি গুদামে হানা দিয়ে বাকি বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধার করা হয়।

মাদক পাচারের অভিনব ছক: তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ড্রাগ মাফিয়ারা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভারী যন্ত্রপাতির ভেতর বিশেষ গোপন কুঠুরি (Cavity) তৈরি করে এই কোকেন ভারতে এনেছিল। প্রতিটি প্যাকেট ৯ স্তরের পলিথিন এবং কালো চটচটে গ্রিজ জাতীয় পদার্থ দিয়ে মোড়ানো ছিল, যাতে স্ক্যানারে বা ডগ স্কোয়াডের চোখে ধুলো দেওয়া যায়।

জিরো টলারেন্স নীতি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সফল অভিযানের জন্য এনসিবি টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জানান, নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘মাদক মুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। সাধারণত ভারতে বছরে গড়ে ২০০-৩০০ কেজি কোকেন ধরা পড়ে, সেখানে একটি অভিযানেই ৩৪৯ কেজি উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বর্তমানে এই মাদক চক্রের মূল পান্ডা ও অর্থদাতাদের সন্ধানে তদন্ত জারি রয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় বিদেশের বহু গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কোকেন মুম্বইয়ের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই এনসিবির এই ‘হোয়াইট স্ট্রাইক’ বড়সড় বিপর্যয় রুখে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy