মুকুল নেই, তবু কৃষ্ণনগরে তিনি ‘কিংমেকার’! তিন প্রার্থীর লড়াইয়ের মাঝেও কেন চর্চায় প্রয়াত ‘চাণক্য’?

তিনি আর নেই, তবু কৃষ্ণনগর উত্তরের ভোট মানেই যেন সেই পরিচিত সাদা পাঞ্জাবি আর চশমা পরা মানুষটার স্মৃতি। রাজনীতির ‘চাণক্য’ মুকুল রায় পরলোকগমন করেছেন ঠিকই, কিন্তু এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে তিন প্রধান প্রার্থীর মাঝেও অদৃশ্য ‘চতুর্থ প্রতিপক্ষ’ হিসেবে প্রবলভাবে উপস্থিত তিনি। প্রচারের অলিতে-গলিতে আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁর নাম।

কেন মুকুল রায়েই আটকে কৃষ্ণনগর?

২০২১-এর ভোটে বিজেপির টিকিটে ৩৫ হাজার ভোটে জিতেও মাত্র ৩৬ দিনের মাথায় তৃণমূলে ফিরেছিলেন মুকুল রায়। তাঁর সেই নাটকীয় দলবদল আর পরবর্তী ‘অদৃশ্যতা’ নিয়েই এখন সরগরম কৃষ্ণনগরের চায়ের দোকান থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর প্রয়াণের পর এই প্রথম ভোট দেখছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের গড়।

তিন শিবিরের তিন আক্রমণ:

  • বিজেপির নিশানায় তৃণমূল: বিজেপির দাবি, মুকুল রায়কে জয়ী করার পরেও তাঁকে ‘ছলে-বলে-কৌশলে’ তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যার ফলে এলাকার মানুষ উন্নয়নের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবারের ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখে সেই ‘বঞ্চনার’ জবাব দিতে মরিয়া পদ্ম শিবির।

  • তৃণমূলের সাফাই: ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মুকুল রায় চিরকালই তৃণমূলের ঘরের মানুষ ছিলেন। অসুস্থতার কারণেই তিনি কাজ করতে পারেননি। এবার সোমনাথ দত্তর মতো ‘ঘরের ছেলে’কে প্রার্থী করে মানুষের সেই আক্ষেপ মেটাতে চায় তারা।

  • বামেদের ‘আঁতাত’ তত্ত্ব: সিপিএমের নিশানায় দুই পক্ষই। তাদের হাতিয়ার মুকুল রায়ের সেই বিখ্যাত উক্তি— “বিজেপি মানেই তৃণমূল”। বামেদের দাবি, দুই দল আদতে একে অপরকে আড়াল করছে আর মানুষকে প্রতারণা করছে। অদ্বৈত বিশ্বাসকে জেতানোর ডাক দিয়ে তারা বলছে, এবার মানুষ এই ‘গোপন আঁতাত’-এর বদলা নেবে।

ভোটারদের ক্ষোভ বনাম স্মৃতির লড়াই

স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, মুকুল রায়ের বিতর্ক আর অনুপস্থিতির মাঝে কৃষ্ণনগর উত্তর আসলে ‘অভিভাবকশূন্য’ হয়ে পড়েছিল। হাসপাতালের বেহাল দশা থেকে রেফার-রোগ— উন্নয়নের প্রশ্নে ক্ষোভের বারুদ জমেছে মানুষের মনে।

এক নজরে কৃষ্ণনগর উত্তরের লড়াই:

দলপ্রার্থী
তৃণমূল কংগ্রেসসোমনাথ দত্ত
বিজেপিতারকনাথ চট্টোপাধ্যায়
বামফ্রন্টঅদ্বৈত বিশ্বাস

আগামী ২৯ এপ্রিল ভোট। ব্যালট বক্সে মুকুল রায়ের ‘চাণক্য’ স্মৃতি কোনো দলের পালে হাওয়া কাড়বে, নাকি মানুষ বেছে নেবে নতুন কোনো দিশা— তার উত্তর দেবে সময়। তবে এটুকু নিশ্চিত, প্রার্থী যাই হোক, কৃষ্ণনগর উত্তরের বাতাসে আজও ভেসে বেড়াচ্ছে রায়সাহেবের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy