উত্তরপ্রদেশে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার রণংদেহি মেজাজে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। গাজিপুরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে প্রতাপগড়ের দলিত নিগ্রহ— প্রতিটি ঘটনায় সরাসরি বিজেপি নেতা ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ তুলে যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি।
‘বিজেপি কর্মকর্তারাই অপরাধী, মুখ্যমন্ত্রী দিচ্ছেন সুরক্ষা’
গাজিপুরে নিহত বিশ্বকর্মা সম্প্রদায়ের এক তরুণীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি। এসপি প্রতিনিধিদল ভুক্তভোগী পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দিলেও, অখিলেশ যাদবের দাবি— টাকা দিয়ে বিচার কেনা সম্ভব নয়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “প্রতাপগড় থেকে ফতেহপুর, যেখানেই মেয়েদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, সেখানেই অপরাধীরা বিজেপির পদাধিকারী। আর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্তদের রক্ষা করছেন, কারণ তারা তাঁর নিজের জাতের।”
পিডিএ (PDA) ঐক্যের ডাক
অখিলেশ যাদব স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলিত, অনগ্রসর এবং সংখ্যালঘুদের (PDA) মর্যাদা রক্ষার লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, গাজিপুরের ওই পরিবারকে দেওয়া ৫ লক্ষ টাকা আসলে পিডিএ ঐক্যের প্রতীক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মনোবল বাড়াতে এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে এসপি কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
এদিন শুধু নারী সুরক্ষাই নয়, খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও তীব্র আক্রমণ করেন অখিলেশ। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনারের পরিবারের সদস্যরা কোথায় পদায়ন পাচ্ছেন, তা কি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না? পারিবারিক যোগাযোগ থাকলেই কি ডিজিপি হওয়া যায়?” সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্র বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি এক প্রকার দার্শনিক সুরেই মনে করিয়ে দেন— “শেষ পর্যন্ত সবাই মারা যাবে, তাই অন্তত গণতন্ত্র বাঁচাতে সাহস দেখান।”
পরিসংখ্যানের লড়াই: নিরাপত্তাহীন উত্তরপ্রদেশ
যোগী সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশ নারী ও শিশুদের জন্য নরকে পরিণত হয়েছে বলে দাবি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, সরকারি পরিসংখ্যান বলছে নারী নির্যাতনের ঘটনায় যোগীরাজ্য শীর্ষে। অথচ বিজেপির মন্ত্রীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করছেন না।
এক নজরে অখিলেশ যাদবের প্রধান দাবিগুলো:
গাজিপুর ও প্রতাপগড় কাণ্ডে জড়িত বিজেপি নেতাদের কঠোর শাস্তি।
এসপি কর্মীদের নামে হওয়া ভিত্তিহীন মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার।
বিচারের দাবিতে লড়াইরত পিডিএ সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ করে গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা।
বিজেপি অবশ্য অখিলেশের এই অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভোটের আগে নারী নিরাপত্তা ও জাত-পাতের রাজনীতির এই টানাপোড়েন যে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করছে, তা বলাই বাহুল্য।





