রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের দুই সপ্তাহ পূর্ণ হতে চলল। গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে একাধিক জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে সরকারি চাকরির বয়সের সীমা বৃদ্ধি এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনিক সংস্কার অন্যতম। তবে সকলের নজর এখন একটিই দিকে— পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী সহ মাত্র ৬ জন মন্ত্রী নিয়ে চলছে রাজ্যের শাসনকার্য। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্রের খবর, গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে মন্ত্রিসভা গঠনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণা করা হবে। মন্ত্রিসভায় কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তার নির্দিষ্ট মাপকাঠিও ঠিক হয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু বিধায়ক পদ নয়, বরং পঞ্চায়েত ও পুরসভার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জনবিন্যাস থেকে যাতে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব থাকে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
সীমান্ত সুরক্ষা এবং সিএএ (CAA) রূপায়ন ছিল এদিনের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য রাজ্য সরকারের জমির ছাড়পত্র এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এছাড়া, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ টিপস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
আজ সকাল থেকেই দিল্লিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এরপর রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই সিরিজ বৈঠক থেকে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে পারে। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করাই এখন শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান লক্ষ্য।





