মিঠুনের ড্রয়িংরুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোন মহাকাব্যের চিত্রনাট্য তৈরি হলো?

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যখন ক্রমশ চড়ছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। নিউ টাউনে প্রবীণ অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বাসভবনে আচমকাই উপস্থিত হলেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় স্তরে এই সাক্ষাৎকে একপ্রকার সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে দাবি করা হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দুই হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্বের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

এদিন সকালে আচমকাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় এসে থামে নিউ টাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর বিলাসবহুল আবাসনটির সামনে। সেখানে প্রবীণ অভিনেতার পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর শুরু হয় দুই নেতার একান্তে বৈঠক। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই রুদ্ধদ্বার কথোপকথন। বৈঠক শেষে দুজনে একযোগে ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে এসে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। ক্যামেরার সামনে দুজনের শরীরী ভাষাতেই ছিল এক চরম আত্মবিশ্বাসের ছাপ।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই বৈঠকের নির্যাস তুলে ধরেন। বিগত কয়েক বছরের স্মৃতিচারণ করে শুভেন্দু জানান, “বিগত ৫ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে সাংগঠনিক স্তর থেকে শুরু করে বুথ স্তর পর্যন্ত নিরলস কাজ করে চলেছি। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পথ খুব একটা সহজ ছিল না।” তবে নিজের বক্তব্যের পর মুহূর্তেই তিনি সমস্ত আলো ঘুরিয়ে দেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীর দিকে।

বাংলার মসনদ দখলে বিজেপির এই ঐতিহাসিক উত্থানের পেছনে মিঠুন চক্রবর্তীর অবদানকে মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলায় বিজেপির এই অভাবনীয় এবং কাঙ্ক্ষিত জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন আমাদের সকলের প্রিয় মিঠুন চক্রবর্তী।” শুভেন্দু আরও যোগ করেন যে, মিঠুনদা যেভাবে নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং সমস্ত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, জনসভা করেছেন এবং সাধারণ মানুষের মনে দলের প্রতি বিশ্বাস তৈরি করেছেন, তা এক কথায় অতুলনীয়।

মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, এই জয় কোনো একক কৃতিত্বের নয়। এর পেছনে রয়েছে হাজার হাজার কার্যকর্তার রক্ত, ঘাম এবং পরিশ্রম। শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিজেপির এই জয়ের জন্য যাঁরা এতদিন ধরে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছেন, দলের পতাকা আঁকড়ে পড়ে থেকেছেন এবং রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাবেন। আর সেই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের ধারাটি তিনি শুরু করলেন খোদ মহাগুরুর ঘর থেকে। অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তীও মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনে অত্যন্ত আপ্লুত বোধ করেন এবং আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নে নতুন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy