“মাসে ১ লাখের বেশি মাইনে!”-ভারতীয় রেলে লোকো পাইলট হতে গেলে কী যোগ্যতা লাগে? জানুন খুঁটিনাটি।

ভারতীয় রেলের মেরুদণ্ড বলা হয় যাঁদের, তাঁরা হলেন লোকো পাইলট বা ট্রেন চালক। হাজার হাজার যাত্রীর সুরক্ষার ভার থাকে তাঁদের কাঁধে। কিন্তু আপনি কি জানেন, দিন-রাত এক করে ট্রেন চালানো এই কর্মীদের মাসিক বেতন ঠিক কত? সম্প্রতি রেলের লোকো পাইলটদের বেতন কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অভিজ্ঞতা বাড়লেই লক্ষাধিক টাকা বেতন!

ভারতীয় রেলের লোকো পাইলটদের বেতন তাঁদের পদ এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। মূলত তিনটি স্তরে এই বেতন বিভাজন করা হয়েছে:

  • সহকারী লোকো পাইলট (ALP): কেরিয়ারের শুরুতে একজন এএলপি-র মূল বেতন ১৯,৯০০ টাকা হলেও, বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হয়ে মাসে হাতে পান প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা।

  • সিনিয়র সহকারী লোকো পাইলট: পদোন্নতির পর বেতন একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকার মধ্যে।

  • সিনিয়র লোকো পাইলট (মেল/এক্সপ্রেস): অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে বেতন আকাশছোঁয়া। সব মিলিয়ে মাসে ৮০,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা, এমনকি তারও বেশি আয় করেন তাঁরা।

ভাতার ছড়াছড়ি!

মূল বেতনের পাশাপাশি রেলের চালকরা পান একগুচ্ছ সরকারি সুবিধা। যার মধ্যে রয়েছে:

  • মহার্ঘ্য ভাতা (DA) ও বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA)।

  • রাতের ডিউটির জন্য বিশেষ নাইট ডিউটি এলাউন্স।

  • মাইলজ এলাউন্স (কত কিলোমিটার ট্রেন চালাচ্ছেন তার ওপর ভিত্তি করে)।

  • বিনামূল্যে রেল ভ্রমণ, চিকিৎসা সুবিধা এবং নিশ্চিত পেনশন।

টাকার আড়ালে কঠিন জীবন

বেতন আকাশছোঁয়া হলেও, লোকো পাইলটদের জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এটি ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন ও স্ট্রেসফুল চাকরি। ১. ছুটির অভাব: উৎসবে-ব্যসনে সাধারণ মানুষ যখন বাড়ি ফেরেন, তখন চালকদের থাকতে হয় ট্রেনের ইঞ্জিনে। সহজে ছুটি পাওয়া এখানে বিলাসিতা। ২. অমানবিক পরিশ্রম: দিনের পর দিন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দূরপাল্লার ট্রেন ছোটানো মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ৩. কঠিন পরীক্ষা: শুধুমাত্র মেধাবী এবং কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই এই পেশায় আসার সুযোগ পান।

উপসংহার: আকর্ষণীয় বেতন আর সামাজিক মর্যাদা থাকলেও, এই পেশায় প্রয়োজন ইস্পাতকঠিন মানসিকতা। যারা চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ভারতীয় রেলের এই চাকরি স্বপ্নের মতো।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy