নেশার টাকা জোটেনি, আর সেই আক্রোশেই নিজের জন্মদাত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করল গুণধর ছেলে! বাধা দিতে গিয়ে ছেলের হাতেই রক্তাক্ত হলেন বৃদ্ধ বাবা। সোমবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী থানার মধুপুর গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা রাজ্য। মৃত বৃদ্ধার নাম নুরহাজান বিবি (৬০)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বাবা কিসমত শেখ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত হাসিবুল শেখ দীর্ঘকাল ধরেই নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন থাকত। কাজকর্ম না করায় আট বছর আগেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ হাসিবুল তার বাবা-মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চায়। বৃদ্ধা মা টাকা দিতে অস্বীকার করতেই শুরু হয় তুমুল অশান্তি। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন রাগের মাথায় হাতের কাছে থাকা আনাজ কাটার বঁটি তুলে নিয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাসিবুল।
নারকীয় হত্যাকাণ্ড: প্রত্যক্ষদর্শী তথা পরিবারের ছোট ছেলের বউ মাজিদা বিবি জানান, চোখের নিমেষে শাশুড়িকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে হাসিবুল। চিৎকার শুনে শ্বশুর কিসমত শেখ বাঁচাতে এলে তাকেও ঘাড়ে ও পেটে কোপ মারা হয়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভেসে যায় ঘরের দাওয়া। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দম্পতি। মাজিদা বিবির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই অভিযুক্ত হাসিবুল বঁটি ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। তবে শেষরক্ষা হয়নি; বাড়ির পাশের একটি নিকাশি নালায় পড়ে গেলে গ্রামবাসীরা তাকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
শোকস্তব্ধ পরিবার ও পুলিশি পদক্ষেপ: মৃতার মেজ ছেলে বাগবুল শেখের আক্ষেপ, “দাদা সারাদিন নেশায় চুর হয়ে থাকত। টাকার জন্য প্রায়ই মা-বাবার ওপর অত্যাচার করত। আজ সেই নেশাই সব শেষ করে দিল।” ছোট ছেলে খাইরুল শেখ কাজ থেকে ফিরে এসে দেখেন তাঁর মা নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং বাবা যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। জখম বৃদ্ধকে প্রথমে পূর্বস্থলী ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ঘাতক ছেলে হাসিবুল শেখকে গ্রেফতার করেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই নক্কারজনক ঘটনায় মধুপুর গ্রামজুড়ে এখন শুধুই শোক আর ক্ষোভের আগুন। গ্রামবাসীদের দাবি, এমন কুলাঙ্গার সন্তানের যেন কঠোরতম শাস্তি হয়।