২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই কোচবিহারের তুফানগঞ্জে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১০ মিনিট আগে তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের নাককাটি গাছ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি। অল্পের জন্য বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেল ২০২ জন পরীক্ষার্থী।
সোমবার বালাভূত হাই স্কুল, কৃষ্ণপুর স্কুলসহ মোট তিনটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। ঘড়িতে তখন বেলা পৌনে ১০টা। পরীক্ষার্থীরা যখন নিজেদের আসনে বসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই স্কুলের পাশের ক্যান্টিনে চা তৈরির সময় আচমকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় স্কুল চত্বরে।
ঠিক সেই মুহূর্তে দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ কর্মীরা জ্বলন্ত সিলিন্ডারটিকে টেনে নিয়ে যান স্কুলের মাঝমাঠে। ভিজে বস্তা চাপা দিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলে। খবর দেওয়া হয় দমকলে। কিন্তু দমকল পৌঁছানোর আগেই বিকট শব্দে ফেটে যায় সিলিন্ডারটি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আতঙ্কে পরীক্ষার্থীরা খাতা-পেন ফেলে মাঠের দিকে দৌড় দেয়।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছান তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি এবং এসডিপিও কান্নেধারা মনোজ কুমার। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পড়ুয়াদের বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল বসাক জানান, “বিস্ফোরণটি খোলা মাঠে হওয়ায় কেউ জখম হয়নি। পুলিশের সাহসিকতায় আজ বড় বিপর্যয় এড়ানো গেল।” আতঙ্ক কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের শুরু হয় পরীক্ষা। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।