সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় না—এই আপ্তবাক্যটি ফের প্রমাণ করলেন রাঁচির হিতেশ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে জীবনের লড়াই শুরু করেছিলেন বিহারের হাজিপুরের এই তরুণ। কিন্তু আজ তিনিই রাঁচির রাস্তায় পিৎজা বিক্রির এক সফল উদ্যোক্তা। বিগ বাজারের কাছে তাঁর ছোট পিৎজা আউটলেট এখন ভোজনরসিকদের কাছে এক অনন্য ঠিকানা।
হিতেশের জীবনের গল্পটা অনেকটা সিনেমার মতো। ছোটবেলা থেকেই অভাব ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। অর্থাভাবের কারণে পড়াশোনায় মন বসেনি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর মনে হয়েছিল সব স্বপ্ন সেখানেই শেষ। কিন্তু হাল ছাড়েননি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন, চেয়েছেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে। সেই কঠিন সময়ে তাঁর বড় দাদা তাঁকে পিৎজা বানানোর প্রাথমিক পাঠ দেন। ভাই-এর হাত ধরে শুরু হলো নতুন লড়াই। বাড়িতে দিনের পর দিন কঠোর অনুশীলনের পর তিনি তৈরি হলেন। এরপর রাঁচির রাস্তায় একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করলেন পিৎজা বিক্রি।
এখনকার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ক্রেতাদের মতে, “বড় ব্র্যান্ডের চড়া দামের পিৎজা ছেড়ে মানুষ এখন হিতেশের পিৎজার স্বাদ নিতে ভিড় করছে।” তাঁর দোকানের পিৎজার দাম ৭০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। গুণগত মানে কোনো আপস না করেই তিনি আজ প্রতিদিন ২০০-র বেশি গ্রাহককে তৃপ্ত করছেন। বড় ব্র্যান্ডের মতো প্যাকিং এবং আধুনিক পরিবেশন শৈলী হিতেশের ব্যবসার জনপ্রিয়তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
হিতেশ জানান, তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি হলো ‘কোয়ালিটি’। চিজ থেকে শুরু করে সস—প্রতিটি উপকরণ তিনি সর্বোচ্চ মানের ব্যবহার করেন। পিৎজা বানানোর নিখুঁত অনুপাত ও উপকরণের ব্যবহার তিনি আয়ত্ত করেছেন বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। হিতেশের কথায়, “পণ্য যদি ভালো হয়, তবে মানুষ নিজেই ফিরে আসে।”
তাঁর সাফল্যের পরিসংখ্যানও চমকে দেওয়ার মতো। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয় তাঁর দোকানে, আর সপ্তাহান্তে (শনি ও রবি) ভিড় সামলানোই কঠিন হয়ে পড়ে। এই পিৎজা আউটলেটের আয় থেকেই হিতেশ আজ নিজের স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করেছেন, কিনেছেন কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং বাইক। হাজিপুরের অভাবী ছেলেটি আজ রাঁচির সফল ব্যবসায়ী। তাঁর চোখে এখন নতুন স্বপ্ন—শীঘ্রই বিদেশ ভ্রমণ করতে চান তিনি। হিতেশের এই লড়াই বুঝিয়ে দেয়, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে অভাব বা শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনোটিই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।





