মাথা ন্যাড়া করে ক্লাসে ঢুকল সব পড়ুয়া! ক্যানসার আক্রান্ত বন্ধুর জন্য খুদেদের যা করল তা দেখলে চোখে জল আসবেই!

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়, কিন্তু কিছু দৃশ্য মনের গভীরে ছাপ ফেলে যায়। সম্প্রতি এমনই এক আবেগঘন ভিডিও নেটপাড়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না বিশ্ববাসী। মারণ রোগ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা এক স্কুলছাত্রীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে যে নজির গড়ল তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা, তা এক কথায় অতুলনীয়।

ভয় আর লজ্জার অবসান: চিকিৎসার প্রয়োজনে কেমোথেরাপি চলায় ওই ছোট্ট স্কুলছাত্রীর সমস্ত চুল পড়ে গিয়েছিল। মাথায় চুল না থাকায় সে স্কুলে আসতে প্রচণ্ড লজ্জা পাচ্ছিল। তার ভয় ছিল, স্কুলে গেলে সহপাঠীরা তাকে অন্য চোখে দেখবে বা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। কিন্তু তার সেই ভয় যে কতটা অমূলক ছিল, তা স্কুল চত্বরে পা রাখতেই বুঝতে পারল সে।

এক অনন্য সংহতি: ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নীল কুর্তি ও সাদা সালোয়ার পরা একদল স্কুলছাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রথম নজরে মনে হতে পারে এটি স্কুলের কোনও সাধারণ প্যারেড বা নিয়ম। কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ছাত্রীর মাথা ন্যাড়া করা! শুধু ছাত্রীরাই নয়, প্রিয় ছাত্রীর মনোবল বাড়াতে ক্লাসের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও নিজেদের চুল কেটে মাথা মুড়িয়ে ফেলেছেন। যখন ওই অসুস্থ ছাত্রীটি স্কুলে ঢুকল এবং দেখল তার প্রতিটি বন্ধু এবং শিক্ষক হুবহু তার মতোই দেখতে, তখন তার সমস্ত ভয় মুহূর্তে উবে যায়। সে অনুভব করে, এই কঠিন লড়াইয়ে সে একা নয়, গোটা স্কুল তার পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

বিশ্বজুড়ে কুর্নিশ: এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মানবতার এই অনন্য নিদর্শন দেখে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভারত বদলে যাচ্ছে, শিশুদের এই উদার মনই আগামীর দিশারি।” অন্য একজন নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে লিখেছেন যে, কীভাবে তাঁর স্বামীও কেমোথেরাপির সময় একই কাজ করে তাঁকে সাহস দিয়েছিলেন।

বাচ্চাদের এই সরলতা আর শিক্ষকদের এই সংবেদনশীলতা প্রমাণ করে দিল যে, ঘৃণা বা উপহাস নয়, বরং সহমর্মিতা আর ভালোবাসাই পারে কঠিনতম লড়াইকে জয় করতে। অসুস্থতার ক্ষত হয়তো ওষুধে সারে, কিন্তু মনের ভয় দূর করতে এমন একগুচ্ছ ‘ন্যাড়া মাথার’ বন্ধুদেরই প্রয়োজন হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy