শহরের প্রাণকেন্দ্রে ফের প্রশাসনিক গাফিলতির নগ্ন ছবি। আজ সকালে কলকাতার হেস্টিংস এলাকায় বাতিস্তম্ভের লাইট ভেঙে পড়ে এক নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল প্রায় সাতটা নাগাদ ওই নাবালিকা তার বাড়ির কাছে বাতিস্তম্ভের নিচে খেলা করছিল। সেই সময় হঠাৎই ওপর থেকে বাতিস্তম্ভের ভারি লাইটটি ভেঙে তার মাথার ওপর পড়ে। প্রচণ্ড আঘাতে সে লুটিয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, এই বাতিস্তম্ভগুলির রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো হয় না। স্থানীয়দের দাবি, যে লাইটটি ভেঙে পড়েছে, তা লাগানোর জন্য তিনটি নাটবল্টুর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অভিযোগ, মাত্র একটি নাটবল্টু দিয়ে সেটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিয়মিত পরীক্ষা বা মেরামতির অভাবই এই অকাল মৃত্যুর কারণ বলে তাঁদের অভিমত। শুধু একটি নয়, ওই এলাকার আরও একটি লাইট এখনও বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা, যা যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন, ব্যস্ততম এলাকায় এই ধরনের বেহাল পরিকাঠামো কি পুরসভার চোখে পড়ে না? এই অকাল মৃত্যু কি এড়ানো যেত না? পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে বাতিস্তম্ভগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল।





