তাজ নগরী আগ্রার শামসাবাদ ও ডুকি এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান রণক্ষেত্রের রূপ নিল সোমবার। চারদিকে যখন সানাইয়ের সুর আর আনন্দের পরিবেশ, ঠিক তখনই বরের ‘প্রাক্তন’ প্রেমিকার আকস্মিক প্রবেশে সব ওলটপালট হয়ে যায়। তিন বছরের দীর্ঘ প্রেমের দাবি নিয়ে ওই যুবতী শুধু বরের বাড়িতেই হট্টগোল করেননি, বরং সরাসরি কনের বাড়িতে পৌঁছে বিয়ে রুখে দেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ স্টেশনে স্থানান্তরিত হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে শামসাবাদ থানা এলাকার একটি গ্রামে। ওই গ্রামের এক যুবকের বিয়ের শোভাযাত্রা দৌকি থানা এলাকার একটি গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। বরযাত্রী বেরোনোর ঠিক আগেই পাশের গ্রামের এক যুবতী তাঁর মা ও কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে বরের দরজায় হাজির হন। যুবতীর দাবি, গত তিন বছর ধরে ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল এবং যুবকটি তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রতারণা করে এই বিয়ে তিনি হতে দেবেন না।
প্রথমে বরের পরিবার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও যুবতী পিছু হটেননি। শামসাবাদ থানায় দীর্ঘক্ষণ পঞ্চায়েতি আলোচনা চললেও কোনো রফাসূত্র মেলেনি। নাছোড়বান্দা ওই যুবতী সোজা পৌঁছে যান দৌকিতে কনের বাড়িতে। সেখানে কনের বাবার সামনে বরের সাথে তাঁর সম্পর্কের সমস্ত কথা এবং প্রতারণার কাহিনী ফাঁস করে দেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে বিয়েবাড়িতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ডাউকি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকেই থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওই যুবতী তাঁর দাবির সপক্ষে মোবাইলের পুরনো মেসেজ এবং ঘনিষ্ঠ ছবি প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন। বরের এমন প্রতারণা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান কনে ও তাঁর পরিবার। গভীর রাত পর্যন্ত থানায় দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চললেও কনেপক্ষ এই বিয়েতে আর সম্মতি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কনে ছাড়াই খালি হাতে ফিরতে হয় বরযাত্রীদের। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।





