মাঝনদীতে যমদূত! বাঁচার জন্য চিৎকার, অথচ পরিবারকে মৃত্যুর মুখে ফেলে পালালেন মাঝিরা!

আনন্দভ্রমণ যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি পরিবারটি। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে নর্মদা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা দুর্ঘটনা। কিন্তু এই দুর্ঘটনার থেকেও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানবতার পরাজয়। অভিযোগ উঠেছে, নৌকাটি যখন ডুবতে শুরু করে, তখন যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা না করেই জলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায় মাঝি ও মাল্লারা। মাঝনদীতে অসহায় অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সেই পরিবার শোনাল তাঁদের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা।

ভয়াল সেই মুহূর্ত: পরিবারটি জানায়, জলভ্রমণের মাঝপথেই হঠাৎ নৌকায় জল ঢুকতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। প্রাণের ভয়ে যখন যাত্রীরা চিৎকার করছেন, তখনই দেখা যায় চরম অমানবিক দৃশ্য। সাহায্য তো দূর অস্ত, যাত্রীদের মৃত্যুর মুখে ফেলে দিয়ে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে গা ঢাকা দেয় মাঝিরা। চারদিকে অথৈ জল, আর মাঝখানে একা একটি পরিবার— যমরাজ যেন তখন সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।

বেঁচে ফেরার অবিশ্বাস্য লড়াই: পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমরা যখন বুঝতে পারলাম কেউ আমাদের বাঁচাতে আসবে না, তখন নিজেরাই একে অপরকে ধরে রাখার চেষ্টা করি। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো করে লড়াই চালিয়ে যাই।” দীর্ঘক্ষণ জলের তোড়ের সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে স্থানীয় অন্য এক উদ্ধারকারী দল বা বাসিন্দাদের নজরে পড়ায় প্রাণে রক্ষা পান তাঁরা। কিন্তু সেই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড ছিল তাঁদের কাছে এক একটি দীর্ঘ বছরের মতো।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মাঝিদের লাইসেন্স নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে পর্যটকদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মাঝিরা মাঝনদীতে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ ইতিমধ্যেই পলাতক মাঝিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

জব্বলপুরের এই ঘটনাটি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর আবারও স্পষ্ট করে দিল। পর্যটকদের জীবন নিয়ে এই ধরনের ছিনিমিনি খেলার শেষ কোথায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে আসা এই পরিবারটি এখন কেবল একটাই কথা বলছে— “ভগবান ছিলেন, তাই আজও বেঁচে আছি।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy