কলকাতা বিমানবন্দরে ফের একবার বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল কয়েকশো প্রাণ। বুধবার বিকেলে মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে আগুন দেখতে পাওয়ার কারণে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের (Turkish Airlines) একটি যাত্রীবাহী বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করে। বিমানটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তুরস্কের ইস্তানবুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ যান্ত্রিক বিভ্রাট।
আকাশে আতঙ্ক ও চালকের তৎপরতা: বিমানবন্দর সূত্রে খবর, তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ৭২৭ বিমানটি যখন কলকাতার আকাশের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই পাইলট লক্ষ্য করেন যে ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পাইলট কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসির (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইঞ্জিনে আগুনের খবর পেয়ে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত রানওয়ে খালি করার নির্দেশ দেয় এটিসি। সবুজ সংকেত মেলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিরাপদভাবে কলকাতায় অবতরণ করে বিমানটি।
সুরক্ষিত যাত্রীরা, চলছে মেরামতি: বিমানটি রানওয়েতে নামার সাথে সাথেই সেটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাত্রীদের দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। জানা গিয়েছে, বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী এবং বিমানকর্মীরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। এই মুহূর্তে বিমানটি ইঞ্জিনিয়ারদের নজরদারিতে রয়েছে এবং ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতির কাজ চলছে। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীরা বর্তমানে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন।
আকাশে দুর্ঘটনার ঘনঘটা: উল্লেখ্য, আকাশপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। গত মঙ্গলবারই মুম্বই বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর দুটি বিমানের ডানার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার কলকাতার আকাশে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কলকাতা এটিসি এবং পাইলটের সময়োচিত সিদ্ধান্তে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।





