নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক শক্তির এক অন্য দিক উঠে এসেছে আলোচনায়। বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ মাছ ও মাংস এখন রাজ্যের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভারতের মৎস্য পরিসংখ্যান এবং আরবিআই-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১১-১২ সালে রাজ্যের জিএসডিপি-তে মৎস্য খাতের অবদান ছিল ৩.৩%, যা ২০২২-২৩ সালে ২.১% হলেও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও বিশাল।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ দেশের বৃহত্তম মাংস উৎপাদনকারী রাজ্য হিসেবে শিরোপা পেয়েছে। ভারত সরকারের ‘বেসিক অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫’ অনুসারে, দেশের মোট মাংস উৎপাদনের ১২.৪৬% একাই জোগান দেয় বাংলা। উত্তরপ্রদেশ (১২.২%) এবং মহারাষ্ট্রকে (১১.৫৭%) পিছনে ফেলে এই তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে পশ্চিমবঙ্গ। মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে বার্ষিক মাছ উৎপাদন ২ মিলিয়ন টন স্পর্শ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান ও রপ্তানি: রাজ্যের প্রায় ৩.২ মিলিয়ন মানুষ মৎস্যচাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের মোট মাছের পোনার ১৬ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে বাংলা। শুধু অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, সামুদ্রিক পণ্য বিশেষ করে চিংড়ি রপ্তানিতেও রাজ্য নতুন দিগন্ত খুলছে। ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি ২০২৪-২৫ সালে ৬২,৪০৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বড় অংশীদার পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের ১৫৮ কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং ২,৫২৬ কিলোমিটার নদীপথ এই প্রবৃদ্ধির প্রধান মেরুদণ্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার আরও উন্নতি হলে বাংলার ‘আমিষ’ অর্থনীতি জাতীয় জিডিপিতে আরও শক্তিশালী অবদান রাখতে পারবে।





