মাছ নিয়ে মহাভারত! ‘বিজেপি এলে মাছ বন্ধ’, মমতার তোপে রুই-ইলিশ মুখে জবাব বিজেপির

বাঙালির পাতে মাছ থাকবে কি থাকবে না, ২০২৬-এর নির্বাচনে এটাই এখন সবথেকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র চিরকালীন আবেগকে এবার ভোটযুদ্ধের হাতিয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের সরাসরি অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে এবং মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। অন্যদিকে, এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ উড়িয়ে দিয়ে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবিরও।

মমতার চ্যালেঞ্জ ও অনুরাগের রুই-ভোজ:
বিতর্কের সূত্রপাত ঝাড়গ্রামে নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “ঝালমুড়ি তো খাচ্ছেন, মাছ খেয়ে একটু দেখান দেখি!” এই চ্যালেঞ্জের রেশ কাটতে না কাটতেই নিউটাউনের এক হোটেলে বসে রুই মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে জবাব দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। নিজের হাতে কাঁটা বেছে মাছ খাওয়ার ছবি পোস্ট করে তিনি বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে খাদ্যাভ্যাসে কোনও বিধিনিষেধ নেই। মমতা দিদি নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে গুজব ছড়াচ্ছেন।”

স্মৃতির ইলিশ-বাণ ও প্রার্থীদের মাছ-বিলাস:
এর আগে পয়লা বৈশাখের দিন স্মৃতি ইরানিও এই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়েছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে তিনি সপ্রতিভভাবে বলেছিলেন, “ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন, আমি নিজে বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে!” কেবল শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, স্থানীয় স্তরেও চলছে মাছ-রাজনীতি। ব্যারাকপুরের কৌস্তভ বাগচী থেকে শুরু করে বিধাননগরের শারদ্বত মুখোপাধ্যায়—বিজেপি প্রার্থীদের হাতে এখন মাছ। অন্যদিকে, টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে বাঁশদ্রোণীতে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ স্লোগান দিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে তৃণমূল।

কেন এই মাছ-যুদ্ধ?
বাঙালির কাছে মাছ কেবল খাদ্য নয়, বরং সমৃদ্ধি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। হিন্দু পুরাণে মৎস্য অবতার থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠান—মাছ বাঙালির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তৃণমূল চাইছে বিজেপির ‘নিরামিষাশী’ ইমেজকে ভয় হিসেবে তুলে ধরতে, আর বিজেপি চাইছে মাছ খেয়েই সেই ভয় কাটাতে। সব মিলিয়ে ভোটমুখী বাংলায় এখন গঙ্গার ইলিশ আর পুকুরের রুইয়ের ওপর দিয়েই বইছে রাজনীতির হাওয়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy