“টিকিট ভিখারি” বনাম “চোরের মা”! রাজেশ-মমতা সংঘাতে রণক্ষেত্র জগদ্দল, জল গড়াল কমিশনে

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার মুখোমুখি সংঘাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা বর্তমানে জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। টিকিট চাওয়া এবং দুর্নীতি—এই দুই অস্ত্র নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াই এখন নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়।
মমতার বোমা:
জগদ্দলের নির্বাচনী সভা থেকে নাম না করে রাজেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূলনেত্রী। মমতা দাবি করেন, এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা একসময় তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার জন্য তাঁর কাছে তদ্বির করেছিলেন। কিন্তু তাঁর ‘আর্থিক অনিয়ম’ ও অস্বচ্ছ ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে মমতা তাঁকে টিকিট দেননি। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়।
রাজেশ কুমারের পাল্টা তোপ:
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে নামেন রাজেশ কুমার। সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাঁড়িয়ে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলায় একটা কথা আছে, চোরের মায়ের বড় গলা। উনি সেটাই করছেন। আমি কোনওদিন ওঁর কাছে টিকিট চাইনি। কর্মজীবনে আমার পারফরম্যান্স রিপোর্ট ও ইন্টিগ্রিটি সার্টিফিকেটই আমার সততার প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন, যে দল দুর্নীতিতে ডুবে আছে, সেখানে টিকিট চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তৃণমূলের পাল্টা চাল:
অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই অভিযোগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর দাবি, নেত্রী যখন বলেছেন, তখন নিশ্চয়ই তার পিছনে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ভিত্তি রয়েছে। বিজেপি প্রার্থী হার নিশ্চিত জেনেই এখন ‘নাটক’ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জগদ্দলের লড়াই এখন আর কেবল রাজনৈতিক নেই, তা ব্যক্তিগত ইগো ও সম্মানের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বনাম মুখ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।