রুপোলি পর্দার রোমান্স এবার বাস্তব জীবনের কঠিন লড়াইয়ে। বলিউড হার্টথ্রব কিয়ারা আদভানি এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রার জীবনে এসেছে নতুন অতিথি, তাঁদের আদরের কন্যা সারায়া। কিন্তু মাতৃত্বের এই আনন্দঘন মুহূর্তের আড়ালেই ঘনিয়ে এসেছিল এক গভীর অন্ধকার। প্রথমবারের মতো মা হওয়ার পর ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ বা প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবসাদে ভুগেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণার দিনগুলি এবং স্বামী সিদ্ধার্থের অবিশ্বাস্য সমর্থনের কথা শেয়ার করেছেন কিয়ারা।
কিয়ারা জানান, মা হওয়ার পর শারীরিক পরিবর্তনের চেয়েও মানসিক দোলাচল তাঁকে বেশি বিদ্ধ করেছিল। কোনো কারণ ছাড়াই মাঝরাতে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি। মাতৃত্বের দায়িত্ব এবং হরমোনের পরিবর্তনের সেই কঠিন সময়ে নিজেকে সামলানো তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর ঠিক সেই সময়েই ‘রিয়েল লাইফ হিরো’র মতো তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা।
অভিনেত্রীর কথায়, “আমি বুঝতে পারতাম না কেন কাঁদছি। সিড সব কাজ ফেলে আমার পাশে বসে থাকত। যখন দেখত ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে, তখনই মাঝরাতে আমাকে লং ড্রাইভে নিয়ে বেরিয়ে পড়ত।” শুধু তাই নয়, কিয়ারার মন ভালো করতে সিদ্ধার্থের এই নিস্তব্ধ রাতের সফরগুলোই ওষুধ হিসেবে কাজ করেছিল।
মনোবিদদের মতে, সন্তান জন্মের পর অনেক মহিলারাই এই ধরণের মানসিক অবসাদের শিকার হন, যা নিয়ে কথা বলতে অনেকে দ্বিধাবোধ করেন। কিয়ারা আদভানি নিজের এই ব্যক্তিগত লড়াই জনসমক্ষে এনে আসলে সেই সমস্ত মায়েদের সাহস জুগিয়েছেন যারা নীরবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন।
বলিউডের এই পাওয়ার কাপল বুঝিয়ে দিলেন, পর্দার বাইরেও তাঁদের রসায়ন কতটা মজবুত। সিদ্ধার্থের এই ধৈর্য এবং ভালোবাসা এখন নেটপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিয়ারার এই স্বীকারোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে সময় নেয়নি, যেখানে ভক্তরা সিদ্ধার্থকে ‘বেস্ট হাজব্যান্ড’ ও ‘বেস্ট ফাদার’ তকমা দিচ্ছেন।
মাতৃত্বের এই অজানা গল্প আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের জীবনও রক্ত-মাংসের আবেগ আর লড়াইয়ে গড়া। কিয়ারা ও সিদ্ধার্থের এই সফর আগামীতে অনেক দম্পতিকেই অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।





