কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা তুঙ্গে, তখনই একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অফিসে কোনো মহিলা সহকর্মীর দিকে কুনজরে তাকানো বা অশোভন আচরণ নৈতিকভাবে ভুল বা ‘অশোভনীয়’ হতে পারে, কিন্তু বর্তমান আইনের ধারায় তাকে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ বলা যাবে না।
ঠিক কী জানাল আদালত?
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো মহিলার দিকে তাকানোর ভঙ্গি বা নজর যদি ‘অশোভন’ (Indecent) হয়, তবে তা দণ্ডবিধির ৩৫৪এ (যৌন হেনস্থা) ধারার আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে সূক্ষ্ম বিচার প্রয়োজন। আদালতের মতে:
শারীরিক স্পর্শ বা ইঙ্গিত: যৌন হেনস্থার আওতায় পড়তে হলে কেবল তাকানো যথেষ্ট নয়, সেখানে শারীরিক স্পর্শের চেষ্টা বা সুনির্দিষ্ট কোনো যৌন ইঙ্গিত থাকা আবশ্যক।
অশোভনীয় বনাম দণ্ডনীয়: আদালত জানায়, কোনো আচরণ সামাজিকভাবে নিন্দনীয় বা অভদ্রতা হতে পারে, কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও আইনি উপাদানের অভাবে তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা কঠিন।
মামলার প্রেক্ষাপট
জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর মহিলা সহকর্মী অভিযোগ করেছিলেন যে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁর দিকে কুনজরে তাকাচ্ছিলেন এবং তাঁর ব্যবহারে ওই মহিলা অস্বস্তি বোধ করছিলেন। নিম্ন আদালতে মামলাটি গড়ালে বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। সেখানে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট আইনি অভিযোগগুলি খারিজ করে দেয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: “তাকানো বা কুনজর দেওয়া নৈতিকভাবে অনুচিত হতে পারে, তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না সেখানে অন্য কোনো অপরাধমূলক পদক্ষেপ বা যৌন উদ্দেশ্য প্রমাণিত হচ্ছে।”
শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক
হাইকোর্টের এই রায়ের পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নারী অধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আইনের অপব্যবহার রুখতে এই ধরনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন ছিল।
এই রায়ের ফলে আগামী দিনে কর্মক্ষেত্রে শ্লীলতাহানি বা যৌন হেনস্থার মামলার ক্ষেত্রে এক নতুন দিক উন্মোচিত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।





