২০২৬-এর মেগা লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আর এই ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘নারী শক্তি’। বুথ ফেরত তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ এবং ভোটার টার্নআউট (Turnout) অনুযায়ী, প্রথম দফায় পুরুষ ভোটারদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
পরিসংখ্যানের লড়াই: নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে গড় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটদানের হার অন্তত ২-৩ শতাংশ বেশি বলে জানা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের কিছু আসনে মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কেন এই বিপুল সাড়া? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রভাব নাকি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা— কোন কারণে মহিলারা দলে দলে বুথমুখী হলেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। শাসকদল তৃণমূলের দাবি, সরকারি প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই মহিলারা তাঁদের আশীর্বাদ করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এবং বিরোধীদের দাবি, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার অভাবের প্রতিবাদ জানাতেই মহিলারা নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
২০২১-এর পুনরাবৃত্তি নাকি নয়া ইতিহাস? ২০২১ সালেও মহিলা ভোটারদের একতরফা সমর্থন তৃণমূলকে ক্ষমতায় ফেরাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ২০২৬-এর প্রথম দফায় সেই একই ছবি ধরা পড়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে গেরুয়া শিবিরের। তবে জঙ্গলমহল বা চা-বলয়ে মহিলাদের এই অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত কার ‘ভোট ব্যাংক’ ভরায়, তা জানতে ২ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রথম দফার প্রধান হাইলাইটস:
সার্বিক হার: ৮২.১৫% (প্রাথমিক)।
মহিলা ভোটার: প্রায় ৮৪% নারী ভোটার বুথমুখী হয়েছেন (নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে)।
বড় ইঙ্গিত: প্রান্তিক এলাকাগুলোতেও মহিলাদের দীর্ঘ লাইন পরিবর্তনের বা স্থিতাবস্থার বড় সংকেত দিচ্ছে।





