আজ থেকে ১০ বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে, পকেটে মানিব্যাগ না থাকলেও ভারতের ছোট-বড় সব দোকানে কেনাকাটা করা সম্ভব হবে? পানের দোকান থেকে শপিং মল—এখন এক ক্লিকেই লহমায় মিটে যাচ্ছে লেনদেন। ভারতের সেই ডিজিটাল বিপ্লবের কারিগর UPI (Unified Payments Interface) আজ পূর্ণ করল সাফল্যের ১০ বছর। রিয়েল টাইম পেমেন্টের দুনিয়ায় ভারতকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে এই প্রযুক্তি।
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে UPI-এর মাধ্যমে লেনদেন কেবল বেড়েছেই না, বরং তা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে জোগাচ্ছে অভাবনীয় অক্সিজেন। আজ ভারত কেবল জনসংখ্যার দেশ নয়, বরং ডিজিটাল পেমেন্টের পরিসংখ্যানেও বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক উন্নত দেশও এখন ভারতের এই ‘রিয়েল টাইম পেমেন্ট’ মডেল দেখে বিষ্মিত।
দশ বছরে যেভাবে বদলাল ভারত: শুরুটা ধীর হলেও খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে গিয়েছে এই পরিষেবা। বর্তমানে কোটি কোটি ভারতবাসী প্রতিদিন ফোন-পে, গুগল-পে বা পেটিএম-এর মতো অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করছেন। কেবল মেগাসিটি নয়, ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছেও এখন কিউআর কোড (QR Code) এক পরিচিত নাম। কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই দ্রুত এবং সুরক্ষিত লেনদেনই ইউপিআই-কে মানুষের এত প্রিয় করে তুলেছে।
বিশ্বের চোখে ভারতের বিস্ময়: ইউপিআই-এর এই সাফল্য এখন ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও পা রেখেছে। ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার মতো একাধিক দেশে এখন ভারতীয় পর্যটকরা ইউপিআই ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারছেন। বিশ্বের কাছে এটি এখন ‘কেস স্টাডি’। ভারতের এই পরিকাঠামো ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকরণ বা ডিজিটাল ইনক্লুশনকে যে মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে, তা আধুনিক ইতিহাসের এক স্বর্ণ অধ্যায়।
অর্থনীতিতে নতুন গতি: নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল ইকোনমির দিকে ভারতের এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় ইউপিআই-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার থেকে শুরু করে দুর্নীতি রোধ—সবক্ষেত্রেই এই স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে।
আজ ১০ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউপিআই কেবল একটি পেমেন্ট মোড নয়, এটি ভারতের আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বজয়ের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।





