মহারাষ্ট্রে মহাজাল! পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির ছক বানচাল করতে ৫০ জায়গায় এটিএস হানা

মহারাষ্ট্র জুড়ে এক বিশাল নাশকতার ছক ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলতে নজিরবিহীন অভিযানে নেমেছে মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। মুম্বই, পুনে, নাগপুর এবং নাসিক সহ রাজ্যের ৯টি জেলার ৫০টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে এটিএস। পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৫৭ জন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। এই বিশাল নেটওয়ার্কের সদস্যরা সবাই অত্যন্ত অল্পবয়সী যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের মগজ ধোলাই করা হতো। বিশেষ করে ডার্ক ওয়েব এবং অটো-ডিলিট চ্যাট অ্যাপ ব্যবহার করে এই যুবকদের পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গ্যাংয়ে নিয়োগ করা হয়েছিল। বিদর্ভের ভান্ডারা জেলার একটি মোবাইল ফোনের দোকানকে কেন্দ্র করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলত বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

আটক হওয়া যুবকদের কাজ ছিল মহারাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সামরিক ঘাঁটি, জনবহুল এলাকা এবং স্পর্শকাতর স্থাপনার ছবি ও ভিডিও পাকিস্তানে পাঠানো। বিনিময়ে তাঁদের মোটা টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ‘মডিউলার সেল’-এ বিভক্ত ছিল। অর্থাৎ, একটি ছোট দল জানত না অন্য দলটি কী করছে। যদি কোনো একজন ধরাও পড়ে, তবে পুরো নেটওয়ার্ক যাতে ফাঁস না হয়, সেই কারণেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখা হতো।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, অনলাইন গেমিং সার্ভারের ভেতরে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ব্যক্তিগত চ্যাট রুম। সেখানে এই যুবকদের ভার্চুয়ালি অস্ত্র চালানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। টাকার লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হতো একটি জটিল ‘হাওলা নেটওয়ার্ক’। কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কমিশন এজেন্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সীমান্ত পার থেকে টাকা আসত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন। যার ফরেনসিক পরীক্ষায় ডার্ক ওয়েব ব্রাউজারের উপস্থিতিও মিলেছে। পাশাপাশি ‘ডোগরা গ্যাং’ নামক একটি দল এই নেটওয়ার্কের রসদ সরবরাহ এবং সন্দেহভাজনদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করত বলে জানা গেছে। এটিএসের প্রাথমিক ধারণা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে বড়সড় নাশকতার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল। আপাতত ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন গোয়েন্দারা, যা সামনে এলে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের আরও চাঞ্চল্যকর দিক উন্মোচিত হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy