তরুণ মহাকাশ বিজ্ঞানীকে ফাঁসি ইরানের, ইজরায়েলকে উপগ্রহ তথ্য ফাঁসের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের একবার চাঞ্চল্য। ইজরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং স্পর্শকাতর উপগ্রহ তথ্য পাচারের অভিযোগে এক প্রতিভাবান তরুণ মহাকাশ বিজ্ঞানীকে ফাঁসি দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত গোপন তথ্য শত্রুপক্ষকে পাচার করার অপরাধেই এই চরম দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
অভিযোগের তির ইজরায়েলের দিকে: ইরানের বিচারবিভাগীয় সূত্রের দাবি, ওই বিজ্ঞানী দীর্ঘদিন ধরে ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি এবং সামরিক উপগ্রহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ছবি তিনি ইজরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। তেহরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই বিজ্ঞানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইরানের মহাকাশ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন: ইরান প্রশাসন এই ঘটনাকে ‘দেশের পিঠে ছুরি মারা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আপস করার প্রশ্নই ওঠে না। বিশেষ করে যেখানে ইজরায়েলের মতো চিরশত্রু দেশের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র শাস্তি।
মহাকাশ গবেষণায় ধাক্কা: নিহত ওই তরুণ বিজ্ঞানী ইরানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISA) একজন অন্যতম মেধাবী সদস্য ছিলেন। এয়ারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ইরানকে উপগ্রহ উৎক্ষেপণে অনেকটা সাহায্য করেছিল। তবে মেধার অপব্যবহার এবং দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণেই তাঁকে এই পরিণতি বরণ করতে হলো বলে মনে করছে প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: এই ফাঁসির ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলি সরব হয়েছে। সঠিক স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে ইরান সরকার এই সমালোচনাকে পাত্তাই দিতে নারাজ। তাদের দাবি, অন্য কোনো রাষ্ট্র হলে হয়তো এর থেকেও কঠোর পদক্ষেপ নিত।
ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। পরমাণু বিজ্ঞানীদের টার্গেট করা থেকে শুরু করে এবার মহাকাশ বিজ্ঞানীদের ফাঁসি— এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।





