সাবধান উত্তরাখণ্ড! বিনা অনুমতিতে মাটির তলা থেকে জল তুললেই এবার গুনতে হবে দ্বিগুণ জরিমানা

উত্তরাখণ্ডে দ্রুত নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সরকার। রাজ্যের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং অবৈধভাবে মাটির তলা থেকে জল তোলা রুখতে এবার থেকে ধার্য করা হবে আগের তুলনায় দ্বিগুণ জরিমানা। বিশেষ করে দেরাদুন, হরিদ্বার এবং নৈনিতালের মতো পর্যটন ও শিল্পপ্রধান জেলাগুলিতে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—নতুন ‘নতুন উত্তরাখণ্ড’ গড়া, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতিটি ফোঁটার হিসাব থাকবে।

রাজ্য সরকার এবং ভূগর্ভস্থ জল বিভাগের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এখন থেকে হোটেল, রিসর্ট, বড় আবাসন প্রকল্প এবং কলকারখানাগুলিকে জল ব্যবহারের জন্য আবশ্যিকভাবে অনুমতি নিতে হবে। সেচ দপ্তর থেকে ৫০০০ টাকা ফি দিয়ে এনওসি (NOC) নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনও প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়াই বোরিং করে বা জল ব্যবহার করে, তবে তাদের ওপর কেবল ভারী জরিমানাই করা হবে না, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এমনকি পুরনো বোরিংগুলির ক্ষেত্রেও পুনরায় পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে।

৪টি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত এলাকা
নতুন নীতি অনুযায়ী সমগ্র রাজ্যকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—সুরক্ষিত, আধা-গুরুতর, গুরুতর এবং অতি-শোষিত (Over-exploited)। যে সমস্ত এলাকায় জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গিয়েছে, সেখানে জল তোলার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। হরিদ্বারের ভগবানপুর ও লাক্সার, দেরাদুনের রাজপুর রোড ও সহস্রধারা রোড এবং নৈনিতালের কাঠগোদাম ও গোলাপার এলাকায় বিশেষ কড়াকড়ি থাকবে।

কারা ছাড় পাবেন?
জল সংরক্ষণে উৎসাহ দিতে সরকার কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্তও নিয়েছে। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ (বৃষ্টির জল ধরে রাখা) বা জলের রিসাইক্লিং ব্যবস্থা রাখবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। ২৫ শতাংশ জল পুনর্ব্যবহার করলে জলশুল্কে ১০ শতাংশ ছাড় মিলবে। তবে ৩০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের বাড়িতে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যটন ও ক্রমবর্ধমান নির্মাণের চাপে উত্তরাখণ্ডের পরিবেশ যাতে বিপর্যস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy