বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির এখন খবরের শিরোনামে। তবে তা ভস্ম আরতির জন্য নয়, বরং মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের বৈষম্যমূলক নিয়ম নিয়ে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পুণ্যার্থীদের গর্ভগৃহে প্রবেশাধিকার নেই, অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিকরা অনাায়াসেই ‘ভিআইপি’ তকমায় সেখানে গিয়ে পুজো দিচ্ছেন। এই দ্বিচারিতা নিয়েই এবার সরব হয়েছেন ভক্তরা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনের ক্ষমতা: বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গর্ভগৃহে কে প্রবেশ করবেন আর কে করবেন না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকবে উজ্জয়িনীর জেলা শাসকের (কালেক্টর) হাতে। সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের এই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। ফলে কার কপালে গর্ভগৃহের মহাকাল দর্শন জুটবে, তা এখন সম্পূর্ণ প্রশাসনিক মর্জির ওপর নির্ভরশীল।
ভিড়ের চাপে পিষ্ট ভক্তি? প্রশাসনের দাবি, ‘মহাকাল লোক’ করিডোর উদ্বোধনের পর থেকে মন্দিরে প্রতিদিন ১ থেকে ২ লক্ষ পুণ্যার্থী আসছেন। বিশেষ দিনে এই সংখ্যা চারগুণ হয়ে যায়। এত বিপুল ভিড় সামলাতে এবং মন্দিরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগে কেবল শ্রাবণ মাসে ভিড়ের কারণে এটি বন্ধ করা হলেও, এখন তা প্রায় স্থায়ী নিয়মে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ভক্তদের দাবি—প্রশাসন চাইলে দর্শনের জন্য আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা করতে পারে, কিন্তু ভিআইপি কালচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেবতার দরবারে সকলেই সমান, এই আবেগকে গুরুত্ব দিয়েই এখন গর্ভগৃহের দ্বার খোলার দাবি জোরালো হচ্ছে।